ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে চরম ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৭টি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর থেকে রেকর্ড সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা কয়েক হাজার যাত্রী।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সোমবার (২ মার্চ) রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোট ৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি: প্রথম দিনেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলাসহ বিভিন্ন সংস্থার ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

১ মার্চ: সংকটের তীব্রতা বেড়ে এদিন সর্বোচ্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। যার মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো বড় সংস্থাগুলো রয়েছে।

২ মার্চ: সোমবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ১১টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই হাহাকার। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল নিশ্চিত করেছেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেখানে বাতিল হয়েছে।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার একাধিক ফ্লাইট রয়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে সালাম এয়ারের মাস্কাট রুটের ফ্লাইটগুলো এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেয়।

ফলে এই রুটের বিমানগুলো বিকল্প পথ না পাওয়া পর্যন্ত উড্ডয়ন স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

ফ্লাইট বাতিলের ফলে দুই বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবাসীদের দীর্ঘ লাইন ও ভিড় দেখা গেছে। অনেক যাত্রী তাদের কর্মস্থলে ফেরার অনিশ্চয়তায় ভেঙে পড়েছেন।

এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং আকাশসীমা উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিডিউল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।