গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের সালদৈ বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও দোকান লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সালাউদ্দিন আইউবীর সমর্থনে সালদৈ বাজার এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি মিছিল বের করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ চলাকালে বিএনপির সমর্থিত কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় নির্বাচনী অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং জামায়াতের এক কর্মীর মালিকানাধীন একটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও গাজীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা শেফাউল, কাপাসিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফরহাদ হোসেন মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি ইমতিয়াজ হোসেন বকুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের উত্তেজনায় না জড়ানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনার পর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সালাউদ্দিন আইউবী নিজের ফেসবুক লাইভে এসে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, কোনো উসকানিতে বা ফাঁদে পা না দিয়ে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে।
এদিকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা শেফাউল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বাজার এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে হামলায় জড়িতদের পরিচয় স্পষ্টভাবে পাওয়া যাবে। কোনোভাবেই প্রকৃত ঘটনা যেন আড়াল না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াত নেতৃবৃন্দ।