গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, ভোলা ও রাজশাহীর বিভিন্নস্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, প্রচারণায় বাঁধা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে জামায়াতের প্রাথীর গাড়ি বহরে হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪০-৪৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আটকও হয়েছেন কয়েকজন। এদিকে যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের নারী নির্বাচনী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্তদের আদালতে তলব করা হয়েছে।

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল আলম হেলালের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের মুগজী টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা।

দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওই সময় জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে বিএনপির কর্মীরা অতর্কিতভাবে গাড়িবহরে হামলা চালান। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল আলম হেলাল বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা সরে পড়ে।’

ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, এ ধরনের হামলা নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাউছার আলম সেলিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের গণসংযোগ কার্যক্রম চলছিল। একপর্যায়ে মুখোমুখি অবস্থান হলে বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নোয়াখালী সংবাদদাতা, গতকাল বৃহস্পতিবার, নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে গতকাল ১১ দলীয় প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগ যাওয়ার পথে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের হামলায় এনসিপির নেতা কর্মীসহ ৭ জন গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় নোয়াখালী জেলা জামায়াতে আমীর ইসহাক খন্দকার ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতে সেক্রেটারি ও বেগমগঞ্জের ৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে নির্বাচনী প্রচারকালে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কুষ্টিয়া ও দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া বাজারে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া বাজারে যান। এসময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া বিএনপি সমর্থক মো. হামিদ মোল্লার নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১১জন আহত হয়। আহত মধ্যে রয়েছেন জামায়াত কর্মী শরিফুল ইসলাম (৩২), আমিরুল ইসলাম (৫০), হাসান (২৮), শফিউল ইসলাম (৫৫), সাকিল (২৫), ইব্রাহিম (৫২), বিপুল (৩০) ও ইমন (২৮) এবং বিএনপি কর্মী লিটন (৩৫), তবিবুর রহমান (৫০) ও বিপ্লব হোসেন (৩২)। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হামলার ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা : চরফ্যাশন টিবি স্কুল মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় আসার পথে বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

গত বুধবার দুপুরে উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জনসভায় আসার পথে বিএনপি কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উপর হামলা করছে। এতে তাদের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। অনেককে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। অনেকে স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিক আমরা আইন শৃংখলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। ঘটনাস্থল থেকে ৫ বিএনপি নেতাকে আটক করে নৌবাহিনী। পরে শুনেছি, একজনকে নাকি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।

এদিকে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের জনসভাকে বানচাল করতে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে জনসভার উদ্দেশ্য যাওয়া জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপির কর্মীরা। খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ বিএনপি কর্মীকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।পরে মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর-৪ (বাগমারা) আসনে বিলবোর্ড ঁেছড়ার সন্দেহে বিএনপির কর্মীরা হামলা চালিয়ে জামায়াতের বল্টু মিঞা (২০) নামে এক কর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বল্টু উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গ্রামের মুনতাজ আলীর ছেলে। ঘটনাটি গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের বাগ বাজার ঘটে। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষে বিএনপি’র কর্মী আব্দুল হামিদ ও শান্ত হোসেনসহ অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।মামলায় পুলিশ বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী জিয়াউর রহমান জিয়ার সমর্থক উগ্র শান্ত নামের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিএনপি’র কর্মী শান্ত ও আব্দুল হামিদ বাগ বাজারে যান এবং জায়াতের কর্মী বল্টু মিয়াকে দাঁড়ি পাল্লার ভোট করতে বারন করেন। এ সময় জামায়াতের কর্মী বল্টু মিঞা’র সাথে বিএনপি’র কর্মী শান্ত হোসেনের কথা কাটাকটি হয়। পরে রাতে বিএনপির সমর্থকরা দলবদ্ধ হয়ে মিথ্যা বিলবোর্ড ছেড়াঁর অভিযোগ তুলে। এনিয়ে কথা কাটাকটির এক পর্যায়ে বিএনপি’র কর্মী শান্ত হোসেন ও আব্দুল হামিদ জামায়াত কর্মী বল্টুর উপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর আহত করে। রাতেই জামায়াতের কর্মী মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে আব্দুল হামিদ ও শান্তর নামে বিএনপি’র কয়েকজন অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জামায়াত কর্মী মোজাম্মেল হকের দাবি, সন্ধ্যায় তার ভাতিজা বল্টু বাজারে একটি দোকানে অবস্থান করছিল। এ সময় নির্বাচনী কার্যক্রম ও রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন কর্মী দলবদ্ধভাবে দোকানে প্রবেশ করে মিথ্যা বিলবোর্ড ছেঁড়ার অভিযোগে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বল্টুকে এলোপাতাড়ি মারধর রক্তাক্ত করে। ভাতিজাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা মোজাম্মেল হককেও মারধর করে। তিনি বলেন, হামলাকারীর হত্যার উদ্দেশ্যে বল্টুর বুকে উঠে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং বুকে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দু’জনকে উদ্ধার করে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের মাঠে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষকে দমন করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম বলেন, মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার সাথে জড়িত শান্ত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় নারী নির্বাচনী কর্মীদের হেনস্তায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে দুটি মামলা হয়েছে। পৃথক দুই মামলায় ৭জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ফেব্রুয়ারী) অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ৭জনকে স্ব-শরীরে সামারি ট্রায়ালে হাজির হওয়ার আদেশ দিয়েছেন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল। এই আদেশ নোটিশ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌছে কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে চৌগাছা থানার ওসিকে।

কমিটির দুটি পৃথক আদেশে বলা হয়, গত ২ফেব্রুয়ারি তারিখ দুপুর ১টার দিকে চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের সাধারণ নারীদের কাছে (নারী ভোট কর্মী) দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মী মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, মোঃ শিমুল হোসেন, কবির হোসেন হামলা চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে মোবাইল ফোন, খাতা এবং কাগজপত্রাদি কেড়ে নেয়। অভিযুক্তদের ওই আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫ (ঘ) বিধির The Representation of the People Order, 1972 এর Article ৯১ই (৩) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়ার মত উপাদান রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় অভিযুক্ত মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, মোঃ শিমুল হোসেন, কবির হোসেন এর বিরুদ্ধে The Representation of the People Order,1972 এর Article 91B (3) এর অপরাধ ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সামারি ট্রায়ালের নিমিত্তে আমলে গ্রহণ করা হলো।

আসামীদেরকে স্ব-শরীরে নিম্নস্বাক্ষরকারীর অস্থায়ী কার্যালয় (যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত অভয়নগর সিভিল জজ আদালত) এ হাজির হওয়ার আদেশ প্রদান করা হলো।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সামারি ট্রায়ালের দিন ধার্য্য করে আসামীদের প্রতি সমন ইস্যু করার নির্দেশনা দেন ৮৬ যশোর-২ সংসদীয় আসনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান সিভিল জজ গোলাম রসুল। একই সাথে অভিযোগকারীকে অভিযোগের সাক্ষ্য প্রমাণসহ হাজির থাকার এবং তাদেরকেও সমন জারির নির্দেশ দেন কমিটির প্রধান। আদেশ ও ইস্যুকৃত সমন জারী করে অতি সত্বর জারী প্রতিবেদন কমিটির কার্যালয়ে প্রেরণের জন্যে অফিসার ইনচার্জ, চৌগাছা থানা, যশোর-কে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

একই দিনে দ্বিতীয় আদেশে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামের সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীর কর্মী মোঃ শাহাবদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান নারী ভোট কর্মীদের হামলা চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে মোবাইল ফোন, খাতা এবং কাগজপত্রাদি কেড়ে নেয়। অভিযুক্তদের উক্ত আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫ (ঘ) বিধির The Representation of the People Order, 1972 এর Article 91B (3) (৩) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাদেরকেও একইভাবে ৮ ফেব্রুয়ারী স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।