একটি নিরাপদ ও মানবিক গাজীপুর-৫-চলো একসাথে করি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ আসন (কালিগঞ্জ, পুবাইল ও বাড়িয়া) কে আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক জনপদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও ইশতেহার ঘোষণার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তিলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন গাজীপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ খাইরুল হাসান। নির্বাচনী পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম।
ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে গাজীপুর-৫ এলাকাকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক উন্নয়ন মডেলে রূপান্তর করাই এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে চায়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সভাপতি ও আলিম মিলাদ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন এবং সাবেক সচিব শেখ এ কে এম মোতার হোসেন। তারা বলেন, এই ইশতেহার কেবল একটি নির্বাচনী ঘোষণা নয়; এটি একটি ন্যায়নিষ্ঠ, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এম ইউসুফ আলী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন কাসেমী। এছাড়াও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা তারবিয়াত সেক্রেটারি মোহাম্মদুল্লাহ, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর আফতাব উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কামাল, জেলা এনসিপিসির যুগ্ম সদস্য রিদওয়ান শেখসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত থেকে ইশতেহারের প্রতি সমর্থন জানান।
ইশতেহারে গাজীপুর-৫ আসনের জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক অনাচার ও দুর্নীতি দমন, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়। বক্তারা বলেন, এই ইশতেহারের মূল দর্শন হলো-‘আমরা শাসন করতে আসিনি, সেবা করতে এসেছি।’ এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক, ব্রিজ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক পৌরসেবা সম্প্রসারণ, কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।