ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী অপরাধ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
মনোনয়নের চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোট গ্রহণের পরের দুই দিন মিলিয়ে মোট পাঁচদিনের (১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
তারা ১৯৭২ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেটরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত নির্বাচনী অপরাধের বিষয়ে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে দায়িত্ব পালনের জন্য এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পাওয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
১১৬ আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছেছে :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোরেশোরে প্রস্তুতি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ১১৬টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোর ব্যালট আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন চিফ আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তারা মূলত আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমাদের দিক থেকে কোনো শঙ্কা আছে কি না, সেটিও তারা জানতে চেয়েছিলেন।
ব্যালট পেপার পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব জানান, আদালতের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কয়েকটি আসনে ব্যালট পেপার নতুন করে ছাপাতে হয়েছে। তবে ৭ তারিখের মধ্যে সব এলাকায় ব্যালট পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার রোধকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কমিশন। সচিব বলেন, আমরা মেটার সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা চাই না ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হোক। বরং আমরা মেটাকে অনুরোধ করেছি যাতে বিদ্রƒপাত্মক, আক্রমণাত্মক বা অপপ্রচারমূলক কন্টেন্টগুলো ডাউন করে দেওয়া হয়। কমিশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেল এ বিষয়ে মেটার সঙ্গে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সচিব জানান, সাত দিন সেনাবাহিনী, আট দিন আনসার এবং নিয়মিত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ১৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকাও দ্রুতই পাওয়া যাবে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং দেশের ভেতরে যারা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বিষয়ে সচিব জানান, ডাক বিভাগ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট সংগ্রহ করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ব্যালট পৌঁছেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮টি। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে ৬ হাজার ৯১ জন কয়েদি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। তাদের ভোট গ্রহণ ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
দেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, দেশি পর্যবেক্ষকদের কোনো ক্ষোভের কথা আমার দপ্তরে লিখিতভাবে আসেনি। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতো তারাও যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।