বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বেকার ভাতার মাধ্যমে যুব সমাজকে অপমানিত করতে তিনি চান না। যুবকদের ভিক্ষুক বানিয়ে নয়, বরং যোগ্যতা, শিক্ষা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেই একটি মর্যাদাশীল জাতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, নারী নিপীড়ন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আজ দেশের যুব সমাজ জেগে উঠেছে, যার প্রমাণ মিলছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেই।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার জর্জ একাডেমি (স্টেডিয়াম) খেলার মাঠে আয়োজিত জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে কাউকে দমন-পীড়ন, গুম, খুন, আয়নাঘরে পাঠানো কিংবা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হবে—এমন বাংলাদেশ তারা চান না। তিনি আরও বলেন, যে দেশে আলেম-উলামারা নির্যাতনের শিকার হন কিংবা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, সে ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে কারও সঙ্গে বেইনসাফি করা হবে না। ভোটের মাধ্যমেই একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে, যেখানে ন্যায়বিচার হবে সর্বজনীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কেবল জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চান না, পরিবারতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাও চান না; বরং ১৮ কোটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ বিজয় ও জনগণের সরকারই তাদের লক্ষ্য।
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আজ দেশে ন্যায়বিচারের অভাব স্পষ্ট। যে বিচার সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য, সেই একই বিচার রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় দেখে নয়, অপরাধ দেখেই বিচার নিশ্চিত করাই তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থাই তারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চান।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরুদ্দীন, ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট প্রার্থী অধ্যাপক ড. মোঃ ইলিয়াস মোল্লা, সাবেক জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু হারিচ মোল্লা। সঞ্চালনায় ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সদস্য সচিব মাওঃ শহিদুল ইসলাম ও বোয়ালমারী পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মাওঃ সৈয়দ সাজ্জাদ আলী।