আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুপুরের পর প্রথম কর্মসূচী লক্ষ্মীখালী গাজী বাড়ীতে মহিলা নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকাল ৩টায় চাঁদনীমুখা খেয়াঘাট সংলগ্ন সোহরাব মার্কেট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল নির্বাচনী জনসভা। গাবুরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন, জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল জলিল এবং জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি জুবায়ের হোসেন। এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “নদী বেষ্টিত দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নয়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। গাবুরার মানুষ বিগত দেড় দশক অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। এই অবস্থা পরিবর্তন করতেই আমি মাঠে নেমেছি।”

তিনি সুন্দরবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন, “সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যুদের উৎপাত বন্ধ না হলে উপকূলের জেলে ও বনজীবীদের জীবনে শান্তি ফিরবে না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—দায়িত্ব পেলে বনদস্যুদের দমন করে সুন্দরবনকে নিরাপদ করা হবে। জেলে, বনজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

গাজী নজরুল ইসলাম তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, “আমি এমপি থাকাকালীন গাবুরা দ্বীপ ইউনিয়নের সাথে পদ্মপুকুরের সংযোগ স্থাপনে চৌদ্দরশী ব্রিজ নির্মাণ করেছি। এটি শুধু একটি ব্রিজ নয়, এটি ছিল মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের একটি সেতুবন্ধন। এই ধারাবাহিক উন্নয়ন কাজ আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “আগামীতে নির্বাচিত হলে গাবুরার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বাজার, খেয়াঘাট উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে হাসপাতাল নির্মাণসহ বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এ মাটির সন্তান। আমি আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা বুঝি। আপনারা আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের পাশে থেকে খেদমত করার সুযোগ দিন।”

এ সময় নিজের এলাকায় বাঁধভাঙা জনতার উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান অতিথি। জনসভায় উপস্থিত জনতা তার বক্তব্যে সাড়া দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি কার্যকর বিকল্প নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং গাবুরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

জনসভা শেষে নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী দিনগুলোতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে।