দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গোটা দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্য। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে সেটাতে আমি খুব সন্তুুষ্ট হতে পারছি না। কারণ যেভাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুন করা হচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এটার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছি।

কিন্তু সরকারের তরফ থেকে সে ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা, সেটা কিন্তু গ্রহণ করা হয় না। আমরা আশা করব যে, সরকার এ ব্যপারে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং এ ঘটনাগুলো যেন নির্বাচনের সময় পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যপারে তারা আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। শুক্রবার গতকাল ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেরাই একই দিনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়েছিলাম, সেভাবেই হয়েছে। একই দিনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণভোটে না বলার কোনো কারণ নেই। তিনি স্পষ্ট করেছেন, গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, সেগুলো বহু আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মৌলিক দাবি। যে সংস্কারগুলো নিয়ে গণভোট হচ্ছে, সেই সংস্কারগুলো তো আমরা বহু আগে ২০১৬ সালে এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে প্রস্তাব তুলে ধরেছি। সুতরাং সংস্কার তো আমাদের মজ্জাগত, সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। সেখানে সংস্কার থাকবে, সেখানে না বলার তো কোনো কারণ আছে বলে আমার কাছে মনে হয়।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিবিরের ধারাবিাহিক বিজয় এবং বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ধারাবাহিকভাবে পরাজয় বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি একটি গবেষণার বিষয়। বিগত সরকারের সময় বিরোধী ছাত্রসংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তাদেরকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। হলগুলোতে থাকতে দেয়া হয়নি। ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে বলে আমি মনে করি না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও আগমন উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারেক রহমানের সফরটাকে অনেকটা ব্যক্তিগত সফর বলতে পারেন। কারণ দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফিরেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি তার পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় আসবেন। সেখান থেকে তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে আসবেন। এরপর দিনাজপুর উনার নানীর কবর জিয়ারত করবেন সেই সাথে ঠাকুরগাঁও আসবেন, যেহেতু এখানে জুলাই আন্দোলনে কয়েকজন শহীদ হয়েছেন তাদের কবর জিয়ারত করবেন। সেই সাথে দেশনেত্রীর জন্য আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করবেন।

এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্ল্যেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন তারেক রহমান। পরদিন তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে অংশ গ্রহণ করবেন।