এক লক্ষ মেট্রিক টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় মহেশখালী–কুতুবদিয়া সহ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট জননেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “এ অর্জন কারো একক নয়, এটি মহেশখালী-কুতুবদিয়ার আপামর জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফসল।”

লবণ চাষ মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের অন্যতম প্রধান জীবিকার মাধ্যম। তবে দীর্ঘদিন ধরে লবণচাষীরা উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ বৈষম্য উত্তরণের জন্য ড. হামিদুর রহমান আযাদ বহুদিন ধরে মাঠ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ তিনি মহেশখালী–কুতুবদিয়ার লবণচাষী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার *জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। ওই মানববন্ধনে লবণচাষীদের স্বার্থরক্ষায় সরকারের কাছে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয় এবং দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল ২০২৫, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে তিনি *শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বরাবর পৃথক ডিও লেটার প্রদান করেন। পাশাপাশি বিষয়টির অগ্রগতির জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়েও নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

এ ছাড়া ৬ আগস্ট ২০২৫ তিনি সরাসরি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে উপদেষ্টাদ্বয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। সে সময় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তবে পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেটের চাপ ও ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করে এক লক্ষ মেট্রিক টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ড. হামিদুর রহমান আযাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ লবণ আমদানি বন্ধের জোরালো দাবি জানান এবং আন্দোলন আরও বেগবান করার হুঁশিয়ারি দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষী, ভোক্তা ও ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এক মানব বন্ধন থেকে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ এবং লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

বিশিষ্ট লবণ ব্যবসায়ী ও লবণচাষী সমিতি এবং মহেশখালী সমিতি ঢাকা-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রেক্ষাপটে ড. হামিদ আযাদ বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদ্বয়ের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহ্বান জানান।

সকলের সস্বলিত প্রয়াস ও ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণা এলে লবণচাষী ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “এই বিজয় কারও একার নয়। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনগণ, লবণচাষী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক, ছাত্রসমাজসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “লবণচাষীদের ন্যায্য অধিকার ও জীবিকা সুরক্ষায় আমি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থেমে থাকবে না।”