মাহবুব আলম


ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসনের বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের শেষ বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালমোহন উপজেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।


বক্তব্যে মেজর হাফিজ বলেন, “আপনারা আমাকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। অথচ বিগত নির্বাচনে আমি নিজের ভোটও দিতে পারিনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আমাকে লঞ্চঘাট থেকে রিসিভ করে এনেছিল। এরপর পুলিশ দিয়ে আমার বাসা ঘিরে রাখা হয়, ১৫ দিন ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। উল্টো ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে আমার নামে মামলা দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “তোফায়েল আহমেদ আমার সঙ্গে ভোটে হেরে গিয়ে ঢাকার এক খুনিকে আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল। সে আমার এজেন্ট ও মহিলা সমর্থকদের কুপিয়ে আহত করেছে। বিগত সরকার কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়নি।”


সাবেক এই মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “শেখ হাসিনা দেশের সম্পদ লুট করে লন্ডন, কানাডা ও আমেরিকায় পাহাড় গড়েছে। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি আছে। প্রতিবাদী যুবক ও বিএনপির কর্মীদের আয়নাঘরে রাখা হয়েছে। সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে নির্যাতন করা হয়েছে। এসব অত্যাচারে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কারো গোলাম হবে না, স্বাধীন ও সার্বভৌম থাকবে। জিয়াউর রহমানের মতো সৎ মানুষ খোলাফায়ে রাশিদীনের বাইরে আর কেউ নেই। যারা একসময় আমাদের মিত্র ছিল, তারা আজ জান্নাতের বিনিময়ে ভোট চাইছে। দেশ চালাতে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, আর বিএনপির চারবার দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।”


নিজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে মেজর হাফিজ বলেন, “লালমোহনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা ও ব্রিজসহ সকল উন্নয়ন আমার হাত ধরেই হয়েছে। আপনারা আমার দিকে তাকিয়ে ভোট দেবেন, আমার পাশে স্টেজে কারা আছে সেদিকে তাকাবেন না। আমাকে ভোট দিয়ে পরে আমার কাছ থেকে সব হিসাব বুঝে নেবেন।”
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে নদীভাঙন প্রতিরোধসহ লালমোহন–তজুমদ্দিনের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।” এসময় তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
জনসভায় লালমোহন উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।