বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘যেই নেতার দেশে আসা অদৃশ্য শক্তির হাতে নির্ভর করেছে সেই নেতাই এখন জামায়াতে ইসলামীকে গুপ্ত বলছে।”
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গেন্ডারিয়া সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ‘‘জেন-জির মুখোমুখি ড. আব্দুল মান্নান” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পরও যিনি দেশে আসতে পারেন নি, দেশে আসা নিজের একক সিদ্ধান্ত নয় দাবি করেছে সেই নেতাই এখন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা সামন্য সমস্যা দেখলেই বিদেশে পালিয়ে যায় তাদের মুখে জামায়াতে ইসলামীকে গুপ্ত বলা মানায় না। দেশের জনগণ জানে কারা সংকটে পালিয়ে যায় আর কারা সংকটে জাতির নেতৃত্ব দেয়। জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি এবং যাবে না।
এসময় তিনি আরও বলেন, জেন-জি স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে। পৃথিবীর যত বড়-বড় পরিবর্তন হয়েছে তা তরুণ যুব সমাজের হাত ধরেই হয়েছে। জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ে প্রতিটি দিন ছিল আমাদের জীবনের শেষ দিন। জুলাইয়ে দিনে ছিল আমাদের শাহাদাতের তামান্না , রাতে ছিল গুম হওয়ার আশঙ্কা। প্রশাসনের লোকজন বাসা-বাড়ি গিয়ে ছাত্রদের খুঁজত। সেখানে কোনো ছাত্রকে পাওয়া গেলে তাকে গুম করে আয়না ঘরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো। ৩৬ দিনের জীবন-মরণ লড়াইয়ে জেন-জিদের হাত ধরেই জুলাই বিপ্লব অর্জিত হয়। কিন্তু একটি দল খুনি হাসিনার ফ্যাসিবাদী কাঠামো বজায় রাখতে চায়। তাদের মনে রাখতে হবে, জেন-জিরা প্রত্যেক ব্যক্তির কথা ও কাজ পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি উপস্থিত তরুণ প্রজন্মকে জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে গণভোটে হ্যাঁ ভোট এবং ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, শেখ হাসিনার নির্বাচন অবৈধ বলে নিজেকে বৈধ মেয়র দাবি করে ৪০ দিন নগর ভবনে তালা দিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টির কথা মানুষ ভুলে যায়নি, যাবে না। পুরান ঢাকায় তালা বিক্রি বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ একটি দলের নেতারা মানুষের দোকান, বাড়ি-ঘর দখল দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। তারা সংসদে গেলে মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই নারীদের ওপর হামলা চালায়, হিজাব খুলে নেয় তাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ থাকতে পারে না, পারবে না। তারা ক্ষমতায় বসলে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ও অধিকার কেড়ে নেবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকাকে যারা নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে জনগণকে প্রজা বানিয়ে রাখছে তাদের বয়কট করতে হবে। জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে গণভোটে ‘‘হ্যাঁ” ভোট এবং ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহন করতে ঢাকা-৬ আসনের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি ও ঢাকা-৬ আসন নির্বাচন কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জকসু এজিএস মাসুদ রানা এবং ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকার সকল সাংগঠনিক থানা আমীর-সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ড. মান্নান তরুণদের সাথে নিয়ে তারুণ্যের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।