সব জায়গায় আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যেটা কারোর জন্যই আমাদের জন্য ভালো নয় দেশের জন্য ভালো নয় উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সচিবালয় থেকে শুরু করে যে সকল অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ফ্যাসিবাদের আমলেও ওএসডি হয়েছিল আবার এখনও তাদেরকে ওএসডি করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের দোসর যারা তারা কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা বহাল ছিল আমরা তখনও বলেছি এখনও বহাল আছে এবং তারা সুবিধামত পোস্টিংও পাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রমোশন পেয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এই ১৬ বছর ১৭ বছর নিষ্পেষিত হয়েছে নির্যাতিত হয়েছে ওএসডি ছিল অনেকের চাকরি চলে গেছে এই লোকদেরকে আবারও ওএসডি করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বক্তব্যের শুরুতে বলেন, শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে যারা দেশকে মুক্ত রাখার জন্য, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে, সবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন সেই সকল বীর শহীদদেরকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের এজন্যই আমি স্মরণ করি তারা আমাদেরকে একটা স্বাধীন বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ দিয়েছে। আর জুলাই বিপ্লবে, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের জন্য শ্রদ্ধার সাথে এজন্যই স্মরণ করি, তাদের এই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আমরা এই পার্লামেন্টে আসার সুযোগ পেয়েছি, পার্লামেন্ট বসেছে এবং আমরা এমপি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপরে ধন্যবাদ দিতে পারছি না একারণেই, যে রাষ্ট্রপতি গত গণহত্যার সাথে সরাসরি জড়িত। উনি শেখ হাসিনার কোনো কাজকেই অপছন্দও করেন নাই, নিষেধও করেন নাই; বরং তার সকল কাজকে তিনি নির্ভিঘেœ সহযোগিতা করে গিয়েছেন। কাজেই এরকম একজন গণহত্যাকারী ব্যক্তিকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে পারি না। এই চুপ্পু সাহেবের মধ্যে কী মধু আছে আমি জানি না, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, যেটা শেখ হাসিনা পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বলে গেছেনÑএতিমের টাকার কথা, এই মামলার তদন্ত কমিশনার ছিলেন হলো চুপ্পু সাহেব তখন দুর্নীতি দমন কমিশনের। কাজেই আমরা জানি না উনার ব্যাপারে এত দুর্বলতা কেন। তবে বিএনপি তো পারে, বিএনপির একসময়ের মহাসচিব বি চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি থেকে সরাইতে তো সময় লাগে নাই, নতুন রাষ্ট্রপতি হয়েছে। বহু লোক বিএনপিতে আছে যারা রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো লোক, কিন্তু এরকম একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন রাষ্ট্রপতি রাখছে এটা বিএনপি ভালো বলতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, সরকারি দলের লোকদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো বিরোধী দল। এবং ওঠার পর থেকেই দেখি বিরোধী দলের ব্যাপারে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। আমাদের নেতা আজহারুল ইসলাম সাহেব একটু আগে বলে গেছেন, ৯১ সালে বিএনপি যখন সরকার গঠন করতে পারছিল না, সরকার গঠন করার মতো আসন পায়নি, তখন জামায়াত নিঃস্বার্থভাবে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছেÑএটা কি বিএনপির কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিত নয়? আমরা ৯৭ সাল থেকে একসাথে আন্দোলন, একসাথে নির্বাচন, একসাথে সরকার গঠন; এইভাবে আন্দোলন হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে, সরকার গঠন হয়েছে, সেই সরকারে জামায়াতে ইসলামীর মন্ত্রী ছিল দুইজন। এটা জামায়াত এবং বিএনপির মধ্যে যে একটা সেতুবন্ধন ছিল এটাই তো বোঝা যায়। কিন্তু এরপর থেকে জুলাই বিপ্লব, জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত আমরা তো প্রায় একসাথেই ছিলাম, তখন তো কেউ সমস্যার কথা বলেন নাই। এবং বলা যায় এই স্বৈরাচারী আমলে, এখানে আমরা যারা আছি অনেকেই বলেছেনÑআমাদের সরকারি দলের বন্ধুরা বলেছেন, আমাদের বিরোধী দলের বন্ধুরা বলেছেনÑযে আমরা এখানে জুলুম নির্যাতনের শিকার হই নাই এরকম লোকের সংখ্যা খুবই কম পাওয়া যাবে। যেমন আমি এবং আমার পরিবার ফ্যাসিবাদী আমলে জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে দুই পায়ে লোহার বেড়ি, কোমরে লোহার বেড়ি, দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঘুরানো হতো। এরপর আমাকে প্রায় ৪৫ দিন রিমান্ডে রাখা হয়েছিল। এরপর আমার বড় ছেলে, তখন ১৬ সালের কথা, এসএসসি পরীক্ষার হল থেকে নিয়ে তাকে গুম করে দেওয়া হয়েছিল; তার দুইটা চোখের রেটিনার পর্দা জুলুম নির্যাতন চালিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এই জুলুম নির্যাতনের শিকার তো আমরা সবাই হয়েছি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি এই নির্বাচনের পরেই আমরা জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেলাম যে এখন বাংলাদেশে কোনো জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির কোনো কথা নাই, তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে সারাদেশে এ ব্যাপারে সরকারি দলের কোনো বক্তব্য নাই, বক্তব্য হলো জামায়াতে ইসলামী।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন তো ১৩ সালেই হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা আমাদের সবার মনে থাকার কথা এই সংসদে আমরা যারা আছি। মাননীয় স্পিকার আপনারও মনে আছে নিশ্চয়ই, 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'র কর্মসূচি ছিল ঢাকায় ২৯শে ডিসেম্বর। এই খবর তো কারোই অজানা কথা নয়। সবাই মনে করতেন যে ঐ দিনই সরকারের পতন হয়ে যাবে ১৩ সালে। ২৯শে ডিসেম্বর ছিল এই প্রোগ্রাম। কিন্তু সেই প্রোগ্রামে এই যে মাননীয় মহাসচিব সাহেব এর সাক্ষী। আমরা মিটিং করেছি আগের দিন যে মিটিংয়ে সর্বশেষ মিটিং যেটা হয়েছিল, আমাদের বিরোধী দলীয় নেতাও ছিলেন সেই মিটিংয়ে। এরপর আমাদের এই যে মাননীয় মন্ত্রী, আমাদের পরিবেশ মন্ত্রীও ছিলেন, মহাসচিব তো ছিলেনই গুলশানের একটা বাসায়। সেখানে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সারা বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লোক সেদিন ঢাকায় এসেছিলেন এবং ঐ দিনই সবাই ধারণা করে নিয়েছিলেন আজকে সরকারের পতন হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম দুইজনের ফোন ছাড়া সব ফোন বন্ধÑম্যাডামের ফোন খোলা আর মহাসচিবের ফোন খোলা। উনি ছিলেন মাঠে আমাদের সাথে, আর আমাদের জামায়াত শিবিরের লোকেরা মিছিল বের করে কয়েকজন ইতিমধ্যে শহীদ হয়ে গেল রামপুরায়। কাজেই আমরা যে এত আন্দোলন করলাম ঐ দিন সবার ফোন বন্ধ ছিল কেন এটা কি কোনোদিন জানার সুযোগ হয়েছে জাতির?

তিনি আরো বলেন, শাপলা চত্বরের ব্যাপারেও কিন্তু সেম ঘটনাই হয়েছে। শাপলা চত্বরের দিন ম্যাডাম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে সবাইকে মাঠে নামার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু আসলে কি কেউ নামছিলেন? সেখানে আমাদের অনেক লোক শহীদ হয়েছে, আমাদের আলেম ওলামারা শহীদ হয়েছেন। কিন্তু ঐ দিনও একটা সুযোগ সরকার পতনের কিন্তু ছিল, কিন্তু আমরা সেই কাজটা আসলে করতে পারি নাই। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে ম্যাডাম সকাল থেকে কাজের মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বালির ট্রাকের সামনে পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অন্তত আমরা চলেন বিএনপি এবং জামায়াত মিলে একটা মিছিল সেদিকে দেই। কিন্তু সেদিন কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের হয় নাই।

তিনি বিপ্লবের কথা প্রসঙ্গে বলেন, জুলাই বিপ্লবে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের বা জুলাই অভ্যুত্থানের একক দাবিদার আমরা কোনো সময় ছিলাম না। আমাদের নেতা বিরোধী দলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান সাহেব কোনো সময় বলেন নাই যে এটা শুধু আমরাই করেছি। কিন্তু আপনারা নিজেরা নিজেরা বলেন কেন যে আমরা এটা বলছি? আমরা তো বলি নাই কোনো সময় যে এটা আমরা নিজেরা করেছি। তবে এটা তো সঠিক, ছাত্ররাই তো আন্দোলন শুরু করেছে এবং ছাত্রদের নেতৃত্বেই আন্দোলনের সমাপ্তি হয়েছে। কাজেই এ আন্দোলনে আমাদের নেতা বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাহেব ছাত্রদেরকেও গাইড করেছেন, জামায়াতকে গাইড করেছেন। উনি আন্দোলন উনার জায়গা থেকে যেভাবে গাইড করার দরকার সেভাবে গাইড করেছেন, বিএনপিও গাইড করেছে, সবাই গাইড করেছে এবং সবাই মিলে যার যার জায়গা থেকে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হওয়ার পর আমরা একটি নতুন পরিবেশ পেলাম। এই পরিবেশে এরপর ঐক্যমত কমিশন হলো, সেখানে সংস্কার কমিশন হয়েছে। ঐক্যমত কমিশনে আমি নিজেও সেখানকার একজন সদস্য ছিলাম, আমরা গিয়েছি। এই যে একদিনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনÑএই প্রস্তাব তো বিএনপির, এই যে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে আছেন উনার প্রস্তাব এটাÑএকদিনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবং সেই নির্বাচন হয়েছে, আমি মাঝখানের ইতিহাস আর বলতে চাই না। নির্বাচনে আমরা আগে থেকেই আলাদা বলছিলাম কিন্তু আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবেই একদিনে নির্বাচনটা হয়েছে এবং সেই নির্বাচনে গণভোটে হার পক্ষে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে।

তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, গণভোটের রায়ের কার্যকর করা নিয়েই কিন্তু এখন বিপত্তি দেখা দিয়েছে। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথা বলছেন। আমার প্রশ্ন হলো তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে অসুবিধাটা কোথায়? এখানে তো অসুবিধা থাকার কথা নয়। এবং এটা যদি আমরা করি তাহলে বহু সমস্যারই সমাধান একসাথে হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

তিনি সংবিধান প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সবসময় সংবিধানের কথা বলতেছি। এই সংবিধানের কথা শুনলেই আমার কাছে মনে হয় ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যে মহাসচিব ছিলেন উনার আরেকটা নামও ছিল আমি নাম বলতে চাই না। উনি কিন্তু সংসদেও বলছেন বাইরেও বলছেন এবং অনেক অঙ্গভঙ্গি করেই বলছেন যে যে যাই বলুক আমরা সংবিধান থেকে এক চুলও নড়ব না। সংবিধান কার জন্য? সংবিধান তো মানুষের জন্য। সংবিধানের জন্য তো মানুষ নয়। কাজেই সংবিধান সংস্কার করতে অসুবিধা কোথায়? আমার তো মনে হয় কোন অসুবিধা থাকার কথা নয় এবং আজ এবারের সংসদেও বলা হয়েছে ম্যাডাম কি বলেছিলেন সংবিধানের ব্যাপারে অনেক নেতাই আজকে এখানে আছেন তারা কে কি বলেছিলেন সংবিধানের ব্যাপারে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার ব্যাপারে এটা তো সবাই জানে গোটা জাতি জানে। তা আজকে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে অসুবিধা তো থাকার কোন কথা নয় কিন্তু এই জায়গায় কেন অসুবিধা সৃষ্টি করে আমরা এখানে একটা বিপত্তি তৈরি করার চেষ্টা করছি। কাজেই আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার এই সময়ে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে গণভোটের রায় কার্যকর করলেই সকল সমস্যার সহজেই সমাধান হয়ে যাবে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা লড়াই করেছিলাম বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আমরা লড়াই করেছিলাম একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি সরকারের বয়স তো খুব বেশি হয় নাই উনারা বলেছেন দুই মাস আমরাও বলছি দুই মাস বেশি দিন হয় নাই। কিন্তু বৈষম্য কি প্রতিষ্ঠা হচ্ছে? ইতিমধ্যে দলীয়করণ শুরু হয়ে গেছে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক কি বলে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নিয়োগ করা হয়েছে কি বলে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে এবং সচিবালয় থেকে শুরু করে যে সকল অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ফ্যাসিবাদের আমলেও ওএসডি হয়েছিল আবার এখনও তাদেরকে ওএসডি করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের দোসর যারা তারা কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা বহাল ছিল আমরা তখনও বলেছি এখনও বহাল আছে এবং তারা সুবিধামত পোস্টিংও পাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রমোশন পেয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এই ১৬ বছর ১৭ বছর নিষ্পেষিত হয়েছে নির্যাতিত হয়েছে ওএসডি ছিল অনেকের চাকরি চলে গেছে এই লোকদেরকে আবারও ওএসডি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্য বিভাগে বেশি করা হচ্ছে ডাক্তারদেরকে বদলি করার ক্ষেত্রে একেবারে গণহারে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায়। শুধু ছোট্ট একটা উদাহরণ যদি দেই বোঝা যাবে, মুগদা মেডিকেল কলেজে প্রিন্সিপালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে ওখানে জয়েন করতে দেওয়া হয়নি তাকে এরপরে দেওয়া হয়েছে মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজ সেখানেও তাকে জয়েন করতে দেওয়া হবে না পরে আমি যতটুকু জানি মন্ত্রী মহোদয় হস্তক্ষেপ করে তাকে জয়েন করার ব্যবস্থা করেছেন তাহলে কি মন্ত্রীর বাইরেও কারো পাওয়ারফুল লোক আছে বোঝা যাচ্ছে যারা মন্ত্রীর চাইতেও ক্ষমতা রাখে। আসলে সব জায়গায় কিন্তু আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যেটা কারোর জন্যই আমাদের জন্য ভালো নয় দেশের জন্য ভালো নয়।

তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী বলেছেন আমাদেরকে ট্রেনিং দেওয়ার জন্য আমরা বুঝি না যে এই পার্লামেন্ট কিভাবে চলে। আমি সেই মাননীয় মন্ত্রীকে বলব আমাদের মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমেই আপনার নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখেন যে আপনারা কি করতেছেন আসলে। কাজেই বিরোধী দলকে সবক দেওয়ার চাইতে নিজেরা সবক গ্রহণ করা সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ।

তিনি নিজ এলাকা সর্ম্পকে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া সলঙ্গা আমার এখানে ভোটার প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি প্রায় সাত লক্ষ লোকের বসবাস। এইখানে এর মধ্যে একটি সলঙ্গা একটা এরিয়া আছে যারা বলা যায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং সবাই সে জায়গাটাও আমরা চিনি যেহেতু উত্তরবঙ্গ যাইতে হলেই ওই এলাকার উপর দিয়েই যেতে হবে। সলঙ্গা যেহেতু একটা খুবই পরিচিত এবং রাজনৈতিক সচেতন এলাকা এখানে একটা আলাদা থানা হয়েছে এই থানার এই এলাকায় একটা পৌরসভা হওয়ার জন্য আমি মন্ত্রীকে অনুরোধ করব এই সলঙ্গাকে পৌরসভায় রূপান্তর করা এবং একটি নতুন পৌরসভা দেওয়া এবং পর্যায়ক্রমে এটাকে একটা উপজেলায় রূপান্তর করার জন্য আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। আমার এলাকায় পৌরসভার সাথে লাগানো একটা নদী আছে যে নদীকে রামকান্তপুর নদী বলা হয়। এখানে নদী পৌরসভার সাথে লাগানো কিন্তু নদীর ওপারেই গ্রাম পুরো একটা ইউনিয়ন এবং এই ইউনিয়নের সাথে আমার সিরাজগঞ্জের আমাদের মাননীয় মন্ত্রী খনিজ সম্পদ মন্ত্রী আছে উনি জানেন উনার নির্বাচনী এলাকার লোকজনও এই নদী পার হয়ে যাতায়াত করে। যদি নদীতে ব্রিজ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে এক মিনিটে পার হবে ব্রিজ না হওয়ার কারণে এক ঘণ্টা লাগে খেয়া নৌকা পার হইতে আর আপনার মাননীয় স্পিকার আর যদি রাস্তা দিয়ে ঘুরে আসতে হয় তাহলে ২০ কিলোমিটার ঘুরতে হয় এজন্য আমি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাব এখানে অতি তাড়াতাড়ি একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য।