বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র্র্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর, জামায়াত মনোনীত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সাথে গতকাল শুক্রবার বিকেলে পিটিআই বস্তি কমিউনিটিতে নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, আমাদের আমীরে জামায়াত বলেছেন নারীদের কর্মঘণ্টা হবে ৫ ঘন্টা, বেতন পাবে ৮ ঘণ্টার। অতিরিক্ত বেতন ফ্যাক্টরী মালিক নয়, সরকার দিবে।

নারীদের কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। অনেকেই ক্ষমতায় গেলে প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ফ্যামিলি কার্ডও সেরকম এক প্রতিশ্রুতি। তিনি আরও বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তর কথা ছিল কিন্তু তা হয়নি, রহনপুর রেলবন্দর রূপান্তরে ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। অন্য জেলায় মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও এ জেলায় তা হয়নি। এই জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল করার কথা ছিল, সেটিও হয়নি। এছাড়া পরিকল্পিত নগরায়ন গড়ার কোন পদক্ষেপ ও আমভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আরো বলেন, আন্তঃনগর ট্রেন একটা থেকে আর বাড়েনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ চালুর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এককথায় যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পের প্রসার ঘটেনি। এভাবেই এই জেলাকে পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের ভাবতে হবে এ জেলার উন্নয়ন নিয়ে। প্রতিহিংসায় এ জেলার উন্নয়ন নিয়ে চলেছে বৈষম্য। এখন পট পরিবর্তনে বঞ্চিত চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এ অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে। জীবনমান নির্ধারনে দুর্নীতি একটি বড় বাধা। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি হবে না, দূর্নীতি হতে দেয়াও হবে না। ৩ মাসের মধ্যে দুর্নীতি বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ১০০ রোগীর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে, তা চাহিদা অনুযায়ী নিশ্চিতের পদক্ষেপ নেয়া হবে। হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা ইমার্জেন্সি সেবা না পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অনিয়ম, এই অনিয়ম বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে ভূমিকা সর্বাগ্রে থাকবে। অন্য জেলার উন্নয়ন হলেও এ জেলার প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এ জেলা অর্থনেতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হলেও কোন মূল্যায়ন করেনি বিগত কোন সরকার। তারা শুধু তাদের এলাকা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নানান প্রতিবন্ধকতার অজুহাতে ফাইলবন্দি করে রাখা হয়। শহরের রাস্তাগুলো অপ্রশস্ত হওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ রাস্তা ভঙ্গুর হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা গোলাম রাব্বানী, ১৫নং পৌর ওয়ার্ড সভাপতি মো. ইউসুফ।