আরিফ আহাম্মেদ, ময়মনসিংহ
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন জেলা ময়মনসিংহ। দেশের অন্য জেলাগুলোর মতো ভোটের হাওয়া এখন জোরেশোরে বইছে এ জেলাতেও। দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত হয়ে যাবার পরপরই প্রার্থীরা নেমে পড়েছেন ভোটের প্রচারে। শুরু করে দিয়েছেন ভোটের সাংগঠনিক কাজ। চলছে উঠোন বৈঠক। ও পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ। চলছে অঙ্গ সংগঠন গুলোর সাংগঠনিক কাজ। জেলায় সবচেয়ে শক্তিশালী দল ছিল বিএনপি। তবে প্রত্যাশার চেয়ে দিন দিন ভালো অবস্থানে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে জামায়াত বড় বড় সমাবেশ করে নিজেদের শক্তি জানান দিয়েছে ভোটারদের। নতুন ভোটাররাও জামায়াতের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেক ভোটার বলছেন তারা নতুন কিছু দেখতে চান। পুরানোদের নিয়ে তাদের আর তেমন ভরসা নেই। শুরুর দিকে জামায়াতের প্রার্থীরা কম বেশি পিছিয়ে থাকলেও এখন তারাও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। একাধিক আসনে এরই মাঝে জামায়াতের প্রার্থীরা আলোচনায় চলে এসেছেন। এ ধারা চলতে থাকলে ভোটের আগে জেলাতে জয় পরাজয়ের হিসেবে জামায়াত চমক দেখাতে পারে।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। লিফলেট বিতরণ ও উঠোন বৈঠকের পাশাপাশি ধর্মীয় সভায় যোগদান করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন, দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। তবে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভোটাররা বলছেন, তারা হিসেব কষে ভোট দেবেন। যিনি যোগ্য, কথা দিয়ে কথা রাখবেন, তাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বিএনপির পাশাপাশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ জেলার সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তা। আগামী নির্বাচনে এই আসন দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। আসনটিকে পাওয়ার জন্য জামায়াতও তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আসনটিতে এনসিপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে আছেন।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা): ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসন। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিভক্তি ও আর কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছে উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তবে তার মনোনয়ন মেনে নিতে পারছে না একই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিএনপির দলীয় বিভক্তি এ আসনে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন আসনটি পেতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠ-ঘাট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই আসনটিতে জামায়াত জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী।
এই আসনে ভোটারদের কাছে এখনো অনেকটা অচেনাদের কাতারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) : আসনটি হারানোর শঙ্কা বিএনপির, মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জামায়াত প্রার্থী। আসনটিতে বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতি চরম পর্যায়ে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরইমধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বেশ কিছু নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেও থামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির মধ্যে এমন কোন্দল চলমান থাকলে ভোটের মাঠে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী ভরাডুবিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে নিজেদের পক্ষে ভোট বাড়াতে চেষ্টার কমতি রাখছে না জামায়াত। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনের প্রার্থী গৌরীপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বদরুজ্জামান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী কবি সেলিম বালা, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আজিজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আইয়ুব আলী নুরানী।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) : ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ভোটের মাঠে চোখে পড়ার মতো প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। ভোটের মাঠে তিনি প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে সদর উপজেলাবাসীর কাছে উনার বেড়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা। সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে নাগরিকদের দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে রয়েছে উনার সরব উপস্থিতি। এতে করে সকল শ্রেণির ভোটারদের কাছে বেড়েছে উনার গ্রহণযোগ্যতা। এইদিকে বিএনপি মনোনয়ন ঘোষণায় আসনটি স্থগিত থাকাতে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা অনেকটাই থেমে যায়। পরবর্তীতে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দের নাম ঘোষণা করা হয়। এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা এনসিপির সমন্বয়ক ইকরাম এলাহী খান, এনসিপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানহা শান্তা ও এনসিপি ময়মনসিংহ জেলা সমন্নয় কমিটির সদস্য রাহাত জাহান হোসাইন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা ও ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ময়মনসিংহ মহানগরের সভাপতি এটিএম জাহীদ হাসনাত বুলবুল, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি কাজী মোশতাক আহমাদ ফারুকী, গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী ড. জাফর সিদ্দিকী ও সারোয়ার সরকার।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) : আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিদারের স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহ- ৫ (মুক্তাগাছা) আসন থেকে বিএনপি ও জামায়াত সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হতে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গা চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। এই আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের সহোদর ভাই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব পিয়াস, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আশরাফ সরকার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সিরাজুল ইসলাম। গণ অধিকার পরিষদ থেকে এখন পর্যন্ত কারো নাম শোনা যায়নি।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) : এই আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর কামরুল হাসান মিলন ভোটে মাঠে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ময়মনসিংহে সংসদীয় আসনের মধ্যে ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়ীয়া আসনটি অন্যতম। বিগত সময়ে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের খুব ভালো অবস্থান ছিলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এই আসনটিকে নিয়ে জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। আভ্যন্তরীণ কোন্দলে আসন হারানোর শঙ্কা বিএনপির।
এই আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখতারুল আলম ফারুক। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ভোটের মাঠে তৎপরতা বেড়েছে। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতি আরও চাঙা হয়ে উঠেছে। বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা আখতারুল আলম ফারুককে মেনে নিতে পারছেন না। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী জাভেদ রাসিন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও গণ অধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী রবিউল ইসলাম।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসন। ঢাকা ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়ক হওয়ার পর রাজধানী ঢাকা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের এই উপজেলায় নীরব শিল্পায়ন ঘটেছে। আসনটিতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল। পরিচ্ছন্ন তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে এলাকায় তাঁর রয়েছে বিশেষ গ্রহণযোগত্যা। সময় যত গড়াচ্ছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ততই বাড়ছে। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বিরোধ না থাকলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে আসন হারানো শঙ্কা রয়েছে। এই দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে তাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা এই আসনে জয়লাভের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা এনসিপির সদস্য এডভোকেট এ.টি.এম. মাহবুব উল আলম ও ত্রিশাল উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম ফরাজী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল কদ্দুস শিকদার, মুক্তিজোটের প্রার্থী বাদশাহ দেওয়ান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে হাফেজ মোজাম্মেল হক ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) : ময়মনসিংহ-৮ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী মাঠ জমে উঠেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক করে ভোট বাড়াতে চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমান তালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীরা। ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর ভোটাররাও এবার নড়েচড়ে বসেছেন। তাদের কথা একটাই এইবারের ভোট যোগ্য প্রার্থীকে দিবেন। যারা নাগরিক অধিকার হরণ করে এই ধরনের দলকে আর ভোট দিবেন না। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। বিগত সময়গুলোতে তিনি ঈশ^রগঞ্জবাসীর পাশে থেকেছেন। নির্বাচনের মাঠেও রয়েছে তাঁর ভালো অবস্থান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এই আসনটিতে ভোটের মাঠে সবর উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুঞ্জুরল হক। এলাকায় তার ব্যাপক সুনাম রয়েছেন। আছে সকল শ্রেণির ভোটারদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। জামায়াতের নেতাকর্মীর এখানে জয়ের ব্যাপারে খুব আশাবাদী।
বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কোন নেতা যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেব দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে বিএনপির ভোটে ভাগ বসে যাবে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। ভোটের মাঠে আছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও। তারাও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আসনটিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়ককারী মোজাম্মেল হক, এনসিপি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান সোহেল, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহম্মদ হোসেন ভুইয়া, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী উপজেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ, এলডিপির প্রার্থী এ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জিয়াউর রহমান ও ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর ভোটাররাও নড়েচড়ে বসেছেন। তাদের কথা একটাই অতীতের ভুল আর করতে চাই না। এমন কোন দলকে আমরা চাই না যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে। যে প্রার্থী এই উপজেলার নাগরিকদের দুঃখ-কষ্ট ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে চিন্তা করবে এমন প্রার্থীকেই ভোট দিবেন তারা। আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ইয়াসের খান চৌধুরী। এই আসনে বিএনপির বেশকিছু নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। গত ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ইয়াসের খান চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর থেকেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কর্মীসমর্থকরা একের পর এক বিক্ষোভ, সমাবেশ, মশাল মিছিলসহ নানান কর্মসূচি পালন শুরু করেন। যা এখনো চলমান রয়েছে। এই আসনে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী এ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান। তিনি প্রচারণায় খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে দিচ্ছেন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। উপজেলার ভোটাররাও উনাকে খুব আন্তরিকতার সাথে দিচ্ছেন ভোট প্রদানের আশ^াস। এই উপজেলায় অন্যান্য দলের প্রার্থী হিসেবে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আশিকিন আলম রাজন ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) : ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি উপজেলা হচ্ছে গফরগাঁও। আসনটি পতিত স্বৈরাচার এ আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে খুব পরিচিত ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায় আসনটিতে এখন বিএনপির রয়েছে শক্ত অবস্থান। ফলে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আসন পুনরুদ্ধার করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এজন্য প্রয়োজন দলীয় মনোনয়ন। বসে নেই অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। নিজের পক্ষে ভোট টানতে সভা সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠকসহ নানান কর্মকা- চালাচ্ছেন। আসনটিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমীর ইসমাইল হোসেন ভোটের মাঠে প্রচারণায় খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। জামায়াতের একক প্রার্থী থাকায় আসনটিতে জামায়াতের অবস্থানও চোখে পড়ার মতো। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ এবি সিদ্দিকুর রহমান, প্রয়াত সাবেক এমপি ফজলুর রহমান সুলতানের পুত্র গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মুশফিকুর রহমান, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোফাকখারুল ইসলাম রানা, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট আল ফাত্তাহ খান ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম। অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ক্কারী মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী এনসিপির জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনিত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল বাকী।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) : ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হচ্ছে ভালুকা। তিন শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে উঠা শিল্পনগরী ময়মনসিংহ- ১১ ভালুকা আসন। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোর্শেদ আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, জিয়া ব্রিগেড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আবুল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট আনোয়ারুল আজিজ টুটুল মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলীয় গ্রুপিং প্রকাশ্যে আসে। উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন আলাদা আলাদাভাবে। উপজেলা বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে মেনে নিতে পারছেন না। মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূূচি পালন করেছে। এই দিকে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ভোটের মাঠে খুব জোরালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ। কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে জয়ী হওয়ার প্রবল আকাক্সক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর সাইফ উল্লাহ পাঠান ফজলু। বিএনপির কোন্দলের পুরোপুরি সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছেন তিনি। ভোটের মাঠে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। নেতাকর্মীদের সাথে যাচ্ছেন প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে। সকল শ্রেণির ভোটারদের কাছে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। আসনটিতে জয়ের ব্যাপারে জামায়াত খুবই আশাবাদী। আসনটিতে অন্যান্য দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী তানহা শান্তা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মুস্তফা কামাল কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মামুনুর রশিদ খান, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের পরামর্শক পর্ষদের সদস্য মো. খালেদ হোসাইন।