অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পরিবর্তনের। আলোচনায় থাকা হিন্দু মহাজোটের খুলনা জেলা সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর রয়্যাল মোড়স্থ খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে জেলার কর্মী সমাবেশে তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। এদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষ্ণ নন্দী নিজেও। তাকে প্রার্থী ঘোষণা করার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো অন্য ধর্মের কোন ব্যক্তিকে প্রার্থী করলো। এনিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের টেবিলেও একই আলোচনা। এবার জামায়াত অন্য ধর্মের ব্যক্তিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করলো।

খুলনার ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত’ একটি আসনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা ছিল। সেখান থেকেই ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীর নাম আলোচনায় আসে। কৃষ্ণ নন্দীর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি খুলনার ডুমুরিয়া, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা-এই তিন উপজেলায় রাজনৈতিক মহল ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হতে পারেন কৃষ্ণ নন্দী এমন আলোচনা শোনা যাচ্ছিলো গত এক মাস ধরে। খুলনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চমক হিসেবে নাম উঠে এসেছে তার। সফল ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীর গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে। ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত কালীপদ নন্দী আর মাতার নাম প্রমিলা নন্দী। তার দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় পুত্র রাহুল নন্দী যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএর শেষ বর্ষে এবং ছোট পুত্র পাবন নন্দী রাতুল চুকনগর ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি লেখাপড়া করছে।

কৃষ্ণ নন্দী ১৯৯১ সালে চুকনগর দিব্যপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ফার্টিলাইজার ব্যবসা শুরুর মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি চিত্রানন্দীকে বিয়ে করেন। চিত্রানন্দী একজন গৃহীনি। কৃষ্ণ নন্দী অলিপুর শ্মশান কমিটির উপদেষ্টা। তিনি চুকনগর মেসার্স নন্দী ট্রেডিং কর্পোরেশন, চুকনগর মেসার্স নন্দী মটরস ও পাইকগাছার প্রমিলা মটরস এর সত্ত্বাধিকারী। এরমধ্যে তিনি ২০০৩ সালে সহযোগী সদস্য ফরম পুরণ করে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাতে জামায়াতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে তিনি হিন্দু মহাজোটের খুলনা জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এ উপজেলা ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত এক বছর ধরে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের সব রাজনৈতিক সমাবেশে সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে তার। শুধু নিজের উপস্থিতি নয়, প্রতিটি সমাবেশে তার নেতৃত্বে হিন্দু নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। যদিও এর আগে খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফকে সম্ভ্যাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেছিলো জামায়াত। তারপর থেকে তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলের মনোনয়ন পেতে হলে প্রার্থীকে ন্যূনতম ‘রুকন’ হতে হয়। কিন্তু পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে ইসলাম ধর্মের বাইরেও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি দলের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান বলেছেন, কিছু এলাকায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও উপজাতি প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে গত মাসে সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরে দল প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারবে।

খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম বলেন, খুলনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এ আসনে দাঁড়িপাল্লার হয়ে কাজ করবেন।

কৃষ্ণ নন্দী বলেন, আমি ২০০৩ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ সময়ে সদস্যদের দুঃখ-কষ্টে পাশে থেকেছি। গেল আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দেড় বছর আগে ডুমুরিয়ায় জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাই। দাকোপ-বটিয়াঘাটা আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও কৃষ্ণ নন্দীর বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘কঠোরভাবে আদর্শভিত্তিক জামায়াত হলো ন্যায়-সততার দল। এখানে দুর্নীতির কোন ঠাই নেই, চাঁদাবাজি নেই, কোন মাদক ব্যবসায়ী নেই। শান্তি-সমৃদ্ধি ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দল বলে আমি জামায়াতকে বেছে নিয়েছি। ২০০৩ সাল থেকে এটি করছি, হঠাৎ নয়।’ কৃষ্ণ নন্দী দাবি করেন, দলের দুঃসময়েও তিনি পাশে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের আমলে তিনি কোনঠাসা ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এলাকায় জামায়াতের রাজনীতি করায় তাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্রে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জামায়াত আমীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আমি তাদের নির্দেশনা পেয়েছি, ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় বটিয়াঘাটায় এক কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করবো। আমার সঙ্গে জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। তাকে নিয়ে প্রশ্ন করলে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘বুধবার জামায়াত আমীর আমাদের দু’জনকে বুকে বুক মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি এখন আমার হয়ে নিজেই প্রচারণায় নেমেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে জামায়াতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর আমীরে জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন এবং বুধবার স্থানীয় বোর্ডে চূড়ান্ত হয়েছে।

পূর্ব ঘোষিত প্রার্থী মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। তার পক্ষে আমি প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছি। যেহেতু আমাকেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক করা হয়েছে, সেহেতু সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি যথাসম্ভব কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি খুলনার ৬টি আসনের জন্য জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এর মধ্যে বাকি পাঁচটি আসনের প্রার্থী ঠিক থাকলেও শুধু খুলনা-১ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাউকে প্রার্থী করা হলো প্রায় ১০ মাসের ব্যবধানে।

হিন্দু-অধ্যুষিত এই আসনে ১৯৯৬ সালে নির্বাচন করেন জামায়াত নেতা মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। পরের পাঁচটি নির্বাচনে জামায়াত আর প্রার্থী দেয়নি। তিন দশক পর আবার সেখানে জামায়াত নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে।

দলটির নেতা-কর্মীরা জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এর মধ্যে খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফের নাম ঘোষণা করা হয়। দাকোপ দেশের একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলা। এখানে ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। এ ছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী আছে ২ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্য ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাসিন্দা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। আর বটিয়াঘাটা উপজেলার ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দু ধর্মের। এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে টানা জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থীও এখানে কখনো সুবিধা করতে পারেননি।

এখানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এখানে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমান (পাপুল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা পার্থ দেব মন্ডল গণসংযোগ করছেন। বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে দাকোপ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর কুমার রায়ও আলোচনায় রয়েছেন।

এদিকে খুলনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রথমেই আমার কাজ হবে এলাকার নদী ভাঙ্গনের স্থায়ী সমাধানের। এর প্রয়োজনে খাল ও নদী খনন করবো। দাকোপ উপজেলার ভদ্রা নদীর মুখে ফেরি বসিয়ে খুলনা-কালাবগী যাতায়াতের ব্যবস্থা করবো। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। হাট, ঘাট, কালভার্ড, ব্রিজ, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ সংস্কার এবং বিশেষ করে অমুসলিম ভাইবোনদের সকল দাবি, আধিকার সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করবো। ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রতা, ঘুষ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্তসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে । আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ ন্যায় ভিত্তিক মানবিক ও কারিগরি শিক্ষা নীতির বাস্তবায়ন করতে কাজ করছি। স্থানীয় চাহিদা ও ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় রেখে সব ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করব। সর্বপরি দাকোপ-বাটিয়াঘাটার উন্নয়নে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বটিয়াঘাটা-দাকোপে প্রচুর উর্বর ও সম্ভাবনাময়ী এলাকা কিন্তু নদীমাতৃক হওয়ার কারণে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট এমনকি দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করবো। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং সহজ না হওয়ায় এলাকার উৎপাদিত শস্য ও সুন্দরবনের সম্পদ তার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে কারণে কৃষকেরা নিজেদের জীবন যাত্রাকে উন্নয়ন করাতে পারছে না। তাছাড়া প্রতি বছর নদীভাঙনে কৃষকরা প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে ফসল, বিলীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর, সহায় সম্বল এমনকি মাথা গুজার ঠাইটুক। এই আসন থেকে আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে নদীভাঙনের টেকসই সমাধানসহ অবহেলিত কামারখোলা, নলিয়ান, সুতারখালী, কালাবগিসহ প্রত্যেকটা গ্রামকে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার মাধ্যমে খুলনা-১ আসনকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।