নির্বাচনী ব্যস্ততার চেনা ছকের বাইরে গিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে গণসংযোগে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত খুলনা-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। আনুষ্ঠানিকতার দেয়াল ভেঙে তিনি সরাসরি কথা বলেন দোকানদার, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের সঙ্গে।

গণসংযোগ চলাকালে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “ভোটের রাজনীতি নয়, মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা হারিয়ে গেলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়ে। ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা-এই তিন ভিত্তির উপরই নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।” তিনি সকলের নিকট দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

গণসংযোগে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগর সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, বিএল কলেজ শাখার সভাপতি ছাত্রনেতা হযরত আলী, দৌলতপুর থানা জামায়াতের আমীর মোশাররফ আনসারী, সাবেক ভিপি এডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম ও সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, মুনছুর আলম চৌধুরী, বি এম হাসিব, হাসানুজ্জামান, হাবিবুল্লাহ, জয়দেব মল্লিক, নাজমুস সাকিব, মো. ইয়াসিন, মো. লাভলু হোসেন, আব্দুল মান্নান, হাবিবুর রহমান, আশরাফ হোসেন, পিন্টু মোল্লা, গাজী ওহিদুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, বিএল কলেজ অফিস সম্পাদক আব্দুল্লাহ বুখারী, ইয়াসিন আরাফাত, মো. রাকিবুজ্জামান, আবুল কাশেম, হেলাল হোসেন, আবুল হাসান, নুরুল ইসলাম বুলবুল, এস এম সাব্বির, মাইনুল হাসান সিয়াম, আতিকুর রহমান, মাহবুব হোসাইন ও আহাদুর রহমানসহ শ্রমিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গণসংযোগ শেষে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে ঋণী করেছে। ক্ষমতা নয়, আমানত হিসেবে দায়িত্ব নিতে চাই।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খুলনা-৩ আসন শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে অবহেলার শিকার। এই প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষাবিদ ও সংগঠক হিসেবে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের মাঠে নামা নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। অনেক ভোটার তাঁর সঙ্গে করমর্দন করে বলেন, তারা “শ্লোগানের নয়, চরিত্রের রাজনীতি” দেখতে চান। খুলনা-৩ আসনে এই ধরনের সরাসরি জনসম্পৃক্ত গণসংযোগ ভোটের হিসাবের বাইরেও একটি নৈতিক ও আদর্শিক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।