বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। জনগণের অধিকার আদায়ে একচুলও ছাড় নয়। সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদ জারি রাখা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে দেখার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে ওয়াকআউট করেছি আপনারা দেখেছেন। এগুলো আমাদের দলীয় কোনো বিষয়? এটা জনগণের জীবনের সঙ্গে, জনগণের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই যে পুলিশের সদস্যরা আছেন, তারাও তাদের নিজস্ব বিভাগে সুবিচার পান না। সেগুলো নিয়েও কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমরা এ কথা থামাবো না। সংসদের ভেতরেও বলবো, বাইরেও বলবো।

তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশে দুটি উপ-নির্বাচন ছিল জাতীয় সংসদের। একটি শেরপুর, আরেকটি বগুড়া। এই দুই জায়গায় আমরা আশা করেছিলাম- বিগত নির্বাচন যেভাবেই হোক, এখন একটা সরকার হয়ে গেছে, আমরা কেউ বসেছি সরকারি দলে, কেউ বসেছি বিরোধী দলে। এখন সুন্দরভাবে দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যাক। কিন্তু এ দুটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে শুধু সহিংসতা না, এটা ভয়াবহ সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। এরকমই একটা বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সন্ত্রাস ছিল, হানাহানি ছিল, বিশৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু জুলাইয়ে এত রক্ত আমরা দিলাম, তার পরও রাজনীতির জন্য আর রক্ত কেন দিতে হবে? আমরা আশা করেছিলাম, রক্ত দেওয়াটা ওইখানেই (জুলাই-আগস্ট) শেষ হবে। রাজনীতির ময়দানে সুস্থতা ফিরে আসবে। রাজনীতি হবে ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে। আমার আদর্শ আমার কাছে, আরেকজনের আদর্শ আরেকজনের কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি, আরেকজন লোক তার আদর্শকে ভালোবাসার অধিকার আছে। এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ চলবে, হাত চলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে। সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আপনাদের দুটি চোখ, আপনাদের বিবেকের আরও দুটি চোখ। এই চারটি চোখ যতক্ষণ তাজা থাকবে, জাতি ততক্ষণ ঠিক পথে থাকবে। আর আপনাদের এই চারটি চোখ যদি কোনো কারণে এলোমেলো- ব্যর্থ হয়ে যায়, বাকি তিন স্তম্ভ কাজ করবে না। ওই তিন স্তম্ভকে জাগিয়ে রাখার জন্য চতুর্থ স্তম্ভকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্পর্কে তিনি বলেন, এই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১ হাজার। কিন্তু আমাকে হাসপাতালের পরিচালক অবহিত করলেন, আজকেও হাসপাতালে ৩ হাজার ৭০০ রোগী ভর্তি অবস্থায় সেবা নিচ্ছে। আমি যখন ইমারজেন্সি দিয়ে ঢুকব- পাশেই দেখলাম, মেঝেতে শুয়ে আছে অনেকেই। এরপর দেখলাম- কারও পায়ে ব্যান্ডেজ, কারও হাতে ব্যান্ডেজ, আবার কারও মাথায় ব্যান্ডেজ। এরপর যখন হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেছি- দেখলাম, তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের বারান্দাগুলোর দুইপাশ মেঝেতে অসংখ্য রোগী শুয়ে আছে। এগুলো প্রমাণ করে, আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সেবায় জনগণের ওপরে সুবিচার করছি না। অথচ একটি সুস্থ সবল জাতি গঠনের জন্য জনস্বাস্থ্যের সুস্থতার কোনো বিকল্প নেই।