বিরামপুর নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরামপুর উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের নির্বাচনী পথসভায় বিরামপুর পৌর শহরের পল্লবী মোড়ে প্রধান মেহমান হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর যারা এমপি নির্বাচিত হবেন, তারা হবেন জনগণের সেবক।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে একদল সৎ লোক দাড়িয়েছে তারা যদি সংসদে চলে যায় তাহলে এই দেশটা পরিবর্তন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই যারা আমাদের এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবেন না, তারা হবেন সেবক এবং আগামী ১৩ তারিখে যে সরকার গঠন হবে সে সরকার হবে ন্যায় ও ইনসাফের সরকার, সে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের সরকার।
বিরামপুর উপজেলা আমীর হাফিজুল ইসলাম বিএসসি’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু হানিফের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও দিনাজপুর শহর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, দিনাজপুর জেলা দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজু, নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী, ডাকসু নির্বাচিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, এবি পার্টির দিনাজপুর জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল কাশেম, হাকিমপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আমীর মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট উপজেলা আমীর মোফাখখারুল ইসলাম মোল্লা, বিরামপুর বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, পৌরসভা আমীর অধ্যাপক মাওলানা মামুনুর রশিদ, পৌরসভা সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শাহীনুর রহমান, পৌরসভা শিবিরের সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও মুফতি মাওলানা আব্দুন নুর।
নবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দেশে ন্যায়, ইনসাফ ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের শিকার। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছেজনগণ একতাবদ্ধ হলে অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ সম্ভব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুস্পষ্ট হয়।”
সিগবা বলেন, “আপনাদের সমর্থন পেলে ১১ দলীয় জোট সরকারে এসে দুর্নীতি নির্মূলের সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেবে। প্রশাসন, বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৬ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন,
“বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক হয়ে পড়েছে। গ্রামের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্টসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।”
বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি ছাড়া বিকল্প নেই। আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিরামপুর উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।