যশোর-৪ (অভয়নগর বাঘারপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী, দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই অনুকূল হয়ে উঠছে। একজন শিক্ষাবিদ ও সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ অধ্যাপক গোলাম রসুল শিক্ষা, মাদকবিরোধী আন্দোলন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নির্মূল, উন্নত যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধানের প্রতিশ্ররুতি দিয়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

অধ্যাপক গোলাম রসুল যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের একটি শিক্ষিত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাঘারপাড়া সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে নড়াইল শাহাবাদ মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালে হামিদপুর আল হেরা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন বাজার, হাট, চায়ের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও জনসমাগমস্থলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধ্যাপক গোলাম রসুলের পক্ষে কৃষক, দোকানদার, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নানা পেশাজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।

অভয়নগরের ভবদহ এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, বছরের পর বছর আমরা জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছি। বহু জনপ্রতিনিধি এসেছেন, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। অধ্যাপক গোলাম রসুল এই সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কথা বলছেন, এতে আমরা আশাবাদী।

বসুন্দিয়ার বজারের ব্যবসায়ি রফিকুল ইসলাম জানান, অধ্যাপক গোলাম রসুল তিনি একজন ভদ্র ও সৎ মানুষ। এলাকায় এসে সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আগে রাত হলে মানুষ রাস্তায় চলতে ভয় পেত, মাদক আর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিলাম। উনি নির্বাচিত হলে এসব বন্ধ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

অধ্যাপক গোলাম রসুল তার নির্বাচনী মতবিনিময় সভাগুলোতে বারবার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি নির্বাচিত হলে প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করব। শিক্ষকদের মর্যাদা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় এক শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, তিনি নিজে একজন শিক্ষাবিদ হওয়ায় শিক্ষা খাতের সমস্যাগুলো গভীরভাবে বোঝেন। রাজনীতির সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েও এলাকাবাসীর চোখে প্রশংসিত হচ্ছেন এই জামায়াত প্রার্থী। বাঘারপাড়ার এক ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক আমাদের একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অধ্যাপক গোলাম রসুল বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি প্রশাসন ও সামাজিক শক্তিকে একত্র করে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলনের কথা বলেছেন, যা আমাদের আশাবাদী করেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে অধ্যাপক গোলাম রসুল কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বাংলাদেশ আমরা চাই না। নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সাস্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। বিশেষ করে অভয়নগরের হিন্দু ও সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশুরুতি দেন তিনি। অভয়নগরের এক হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সুনিল মন্ডল বলেন, আমরা চাই শান্তিতে বসবাস করতে। অধ্যাপক গোলাম রসুল আমাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন, এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।

এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়েও তার পরিকল্পনার কথা এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, গ্রমাঞ্চলে এখনো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়নি। তিনি নির্বাচিত হলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

গত কয়েকদিনে অভয়নগর ও বাঘারপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে অধ্যাপক গোলাম রসুলের পক্ষে গণসংযোগ জোরদার হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার, স্কুল-কলেজের সামনে পর্যন্ত তার নামে আলোচনা চলছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা লক্ষণীয়।

একজন তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এমন একজন প্রতিনিধি চাই যিনি শিক্ষাবান্ধব, সৎ ও মানুষের কথা বোঝেন। অধ্যাপক গোলাম রসুল সে রকমই একজন মানুষ বলে মনে করি।

সব মিলিয়ে যশোর-৪ আসনে অধ্যাপক গোলাম রসুলকে ঘিরে ইতিবাচক জনমত ক্রমেই সুসংগঠিত হচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, মাদক, সন্ত্রাস, বেকারত্ব ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এসব ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি যদি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তার সাথে বিএনপির শক্ত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন #