আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্ঘম চরাঞ্চল চাঁনপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন গুলীবিদ্ধ সহ ২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। গতকাল শুক্রবার ভোরের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা চাঁনপুর ইউনিয়নে মোহিনীপুর গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- রায়পুরা উপজেলা চাঁনপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে আমিন মিয়া (২৩) ও একই গ্রামের বারেক হাজীর ছেলে আবুল বাশার (৩৫)। তারা দুই জনই আওয়ামী লীগ সভাপতি সালাম মিয়ার সমর্থক বলে জানা যায়।

জানা যায়, এলাকার আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁনপুর ৯নং ওয়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সালাম মিয়া ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সোহাগের সাথে চাঁনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজ্বী সামসু মেম্বারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্বের জের ধরে বিএনপি নেতা সামুস মেম্বার ও তার সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করেন সালাম-সোহাগরা। পরে গত ৫ আগস্টের পর সামসু মেম্বার ও তার সমর্থকরা এলাকায় ফিরে আসেন। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরই জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলীর ঘটনা ঘটে। এর পর ওয়াড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সালাম মিয়া’র সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করেন বিএনপি নেতা সামসু মেম্বার।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সালাম মিয়া ও তার সমর্থকরা এলাকায় উঠতে চায়। এতে বাধা দেয় বিএনপি নেতা সামসু মেম্বার ও তার লোক জন। পরে দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা-বল্লম, দা, ছুরি, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলীতে ১ জন ও টেটা ও ছুড়িকাঘাতের আরো ১ জন সহ ২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এসময় সংঘর্ষে আহত হয় অন্তত ১০ জন।

আব্দুস সালাম বলেন, সামসু মেম্বারের সাথে পূর্ব থেকে বিরোধ ছিলো। গত ছয় মাস যাবৎ আমার লোকজন এলাকার বাইরে ছিলো। রমযানের ঈদ এলাকায় করার জন্য তারা ভোরে এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এসময় সামসু মেম্বারের লোকজন হামলা চালায়। এসময় দুইজন গুলীতে নিহত হয়। এ ঘটনায় সামসু সহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ইউপি সদস্য সামসু মিয়া বলেন, সংঘর্ষের সময় আমার ৩ জন অনুসারী গুলীবিদ্ধে আহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষের ২ জন মারা গেছে বলে শুনেছি। এদিকে দুইজন নিহতের ঘটনায় পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাবেয়া সুলতানা বলেন, আমিন ও বাশার নামে দুইজনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলী ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

রায়পুরা থানার অফিসার্স ইনচার্জ আদিল মাহামুদ জানান, আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামসু মেম্বার ও সালাম মিয়ার সমর্থকরা সঘর্ষে জড়ায়। এঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। এঘটনায় এখনো থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে মামলা দায়ের হবে।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।