জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য অধ্যাপিকা মাহফুজা সিদ্দিকা হান্নান এমপি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। রাষ্ট্র প্রদত্ত জনগণের আমানত তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব ও দুস্থদের মাঝে সরকার থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য। কারণ জামায়াত মানবতার কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। জনগণের আমানত তাদের হাতে পৌঁছে দিতে চায়। আজকের এই অর্থ সহায়তা তারই প্রমাণ।

তিনি বলেন, আমার সংসদীয় এলাকা হচ্ছে সিলেটের ৬টি আসন। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। তবুও কিছু মানুষের মাঝে এই অনুদান তুলে দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যে রাষ্ট্রে ধনী ও গরিবের কোন বৈষম্য থাকবেনা। ঘুষ-দুর্নীতি, খুন, গুম, ধর্ষন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজী থাকবেনা। মানুষ নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এজন্য জামায়াতকে ক্ষমতায় পাঠানোর বিকল্প নেই।

তিনি মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে সরকারি বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারী অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও দেশের মানুষ ভালো নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাদকসেবীর হাতে র‌্যাব সদস্যকেও জীবন দিতে হচ্ছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্র নগ্ন দলীয়করণ চলছে। ইসলামী ব্যাংককে লুটেরাদের হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হচ্ছে। যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা মাহফুজা হান্নান এমপি ঈদ উপলক্ষে সরকার থেকে যে অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই করে মহানগর এলাকার প্রকৃত ৩০০ সুবিধাভোগী গরীব ও দুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে ৩০০০ টাকা করে মোট ৩ লক্ষ টাকা তুলে দেয়া হয়েছে। শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হবে। জনগণের আমানত জনগণের হাতে তুলে দেয়াকে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি নাগরিককে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, মহিলা জামায়াতের সিলেট অঞ্চল সেক্রেটারী সাহিমা খানম হেপি, মহানগর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারী ফৌজিয়া রহমান শিউলী ও মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেট মহানর মহিলা জামায়াতের দায়িত্বশীলাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।