ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে ভোট প্রদানের পর ব্রিফিংয়ে, ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাটেক, মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ, বনানীর বিদ্যা নিকেতন সড়ক হয়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সাথে কথার সময়ে এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে যে ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, মনে হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করছে। আমি বিশ্বাস করি, গত দুইদিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য।
বিএনপির বিজয়ের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমরা আলহামদুলিল্লাহ, কত আসন প্রত্যাশা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমানের জবাব ছিলো, আমরা অন্তত এতটুকু অবশ্যই প্রত্যাশা করছি , যেখানে আমরা খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব।
আন্দোলনরত দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা বলেছি যে আমরা যে সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আমরা চাই আমরা কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে।
সারা দেশে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশের খবর আমি এখনো পাইনি মাত্র অফিসে আসলাম। ভোটের পাঁচ ঘন্টা অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমি তো ঘুরছিলাম এতক্ষন বিভিন্ন জায়গায় আমি গিয়েছিলাম। কাজেই আমি খবর নিতে পারিনি। এরই ভিতরে আমি মোবাইলের মাধ্যমে আপনাদের বিভিন্ন খবরগুলো আমি দেখছিলাম, আপনাদের খবরই দেখলাম আমি, বিভিন্ন জায়গায় এখনো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে, কোন একটি রাজনৈতিক দল এখনো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারাংবার ঘটিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা চাই না, যে এসব ঘটনা ঘটুক।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি মানুষ যদি বেরিয়ে আসে, সাধারণ মানুষ এই দেশের মালিক, তারা যদি বেরিয়ে আসে, তারা যদি তাদের অধিকার প্রয়োগ করে, ভোটের সংখ্যা যত বেশি বাড়বে আমরা বিশ্বাস করি যে সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করা যাবে। যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের প্রতি তো মানুষের বিরুপ ধারণা হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ ঘটনাগুলো তো ভালো না। তারা তো বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করার বা অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করেন। কাজেই তাদের প্রতি নিশ্চয়ই মানুষের বিরুপ ধারণা হবে।
তারেক রহমান বলেন, ফল গণনা কেনো দেরি হবে? দেরি হবার কোন কারণ নাই। আমরা সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে একটি দ্রুত তাদের যে ভোট দিয়েছে, তার ফল তারা দ্রুতই চাইবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যাতে দেশের মানুষ দ্রুত ফল পায়।
ফল গণনা নিয়ে আপনাদের কোনো টাইম ফ্রেম আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমরা ‘৯১ সালে দেখেছি নির্বাচন, আমরা ’৯৬ সালে দেখেছি, ২০০১ সালে আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেছি। স্বাভাবিক একটি তো সাধারণ টাইম ফ্রেম আছেই। আমরা প্রত্যাশা করব যে সেই টাইম ফ্রেমের মধ্যেই জনগণ রেজাল্ট জানতে পারবে।
ভোটের ফলাফল আপনারা মেনে নেবেন কিনা কিংবা যারা হেরে যাবে তাদেরকে ফল মেনে নেয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠ হয়, নিরপেক্ষ হয়, নির্বাচন যদি বিতর্কিতহীন হয়, তাহলে অবশ্যই কেনো মেনে নেব না, সব দলই আমরা মেনে নেব। কিন্তু অবশ্যই একটি শর্ত আছে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে হবে। আমরা যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি.. যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে সে এরকম বিষয় তো অবশ্যই মেনে নেওয়া যাবে না। কেউই মেনে নিবে না।
আজ একটি স্মরণীয় দিন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, এই দিন শুধু আমাদের আন্দোলনের সফলতা না, ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কোটি কোটি ভোটারই ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত ছিল, আমি মনে করি যে এটা সমগ্র বাংলাদেশে যে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য স্মরণীয় দিন। আসুন আমরা চেষ্টা করি, জনগণ যদি শান্তিপূর্ণভাবে নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারে গণতন্ত্রের সূচনা তো অবশ্যই শুরু হবে
এর আগে গতকাল সকালে গুলশানের মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট প্রদানের পর কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। দলের বিজয়ের বিষয়ে আপনি কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমি ইনশাল্লাহ আশাবাদী, আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
আপনার দল বিজয়ী হলে কোনো বিষয়টাকে প্রাধান্য দেবেন জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমরা আগেও বলেছি, আমরা জয়লাভ করলে সব চেয়ে বেশি যেটা আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে সেটা হচ্ছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করে। সমগ্র দেশের সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ বোধ করে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার থাকবে।
নারীর ক্ষমতা নিয়ে কিছু বলবেন কিনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, দেখুন বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, এই জনসংখ্যাকে পেছনে রেখে আমরা এগুতে পারব না। কাজেই আমরা আমাদের ম্যানিফোস্টোসহ যেসব কথা আমরা নারীদেরকে ক্ষমতায় ও তার উন্নয়ন সম্পর্কে বলেছি, তা আমরা সরকার গঠন সম্ভব হলে প্রথম দিন থেকে আমরা এই বিষয়ে কাজ শুরু করব ইনশাল্লাহ।
সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ভোট দিয়ে তিনি তার পরিবারকে নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে আসলে দেশি-বিদেশী শতাধিক মিডিয়া ঘিরে ধরে। তারেক রহমান সাবলীলভাবে কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, আমি এই মাত্র আমার সাংবিধানিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে এসেছি। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আমরা দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার প্রয়োগ করবেন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রত্যাশা করব যাতে আমরা সকলে মিলে নতুন গণতন্ত্রের সূচনা করতে পারি, বাংলাদেশে যেটি মানুষের বহু দিনের প্রত্যাশা।
গুলশানের এই ভোট কেন্দ্রে তারেক রহমান প্রথম ভোটার। এর আগে ২০০১ সালে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটার ছিলেন। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। একই সঙ্গে তিনি বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে অন্যান্য কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তারেক রহমান কর্তব্যরত পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তিনি উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। হঠাৎ তাকে কাছে পেয়ে অনেক ভোটার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অনেককে তার সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়।