ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্যখাত দুর্নীতি, অদক্ষতা ও খামখেয়ালীপনার শিকার হয়ে নাজুক ও ভঙ্গুর অবস্থায় বিরাজ করে। তবে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সরাসরি মানুষকে জীবন দিতে হয়, এবার শিশুদের জীবন দিতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয় নাই, এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিৎ ছিলো শিশুদের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত এই সংক্রামক রোগের টিকার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তিনি তা করেন নাই। পরিনতিতে হাম ছড়িয়ে পড়ছে। যদি হাম ছড়িয়ে না পড়তো তাহলে হামের টিকা না দেয়ার বিষয়টিও ধামাচাপা পড়ে থাকতো। আমাদের আশংকা হয় চিকিৎসা খাতের অন্যান্য দিকগুলোও না জানি কতটা নাজুক ও ভয়াবহ অবস্থায় আছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর আক্ষেপ করে বলেন, সরকারী হিসেবে গতকালও সাতটি শিশু হামে মারা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৩ দিনে দেশে হামে মোট ২০ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১১৮ শিশুর। বেসরকারী হিসেবে বা সত্যিকারের মুত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হবে নিশ্চিত। এভাবে কোমলমতি শিশুদের মৃত্যু সহ্য করা যায় না। এগুলো মৃত্যু না বরং স্পষ্টত রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারভুক্ত একটি খাতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা মেনে নেয়া যায় না।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর জোর দিয়ে বলেন, আমরা আর কোন শিশুর মৃত্যু দেখতে চাই না। সেজন্য হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। গণস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এমন কাউকে স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্ব দিতে হবে। স্বাস্থের মতো মৌলিক মানবাধিকারভুক্ত একটি খাতে রাষ্ট্রকে ব্যর্থ হতে দেয়া যায় না।