দেশের বিভিন্নস্থানে দাঁড়িপাল্লার কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে আগুন, দোকানে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট, ব্যানার ছেড়া, বিরবোর্ড ভাঙচুর এবং কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধাদানের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
আমাদের বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় ও অফিস উদ্বোধন করায় ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন আলমের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নেপালতলী ইউনিয়নের বুরুজ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দিনভর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর পক্ষে নেপালতলী ইউনিয়নের বুজরু বাজার কদমতলী এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হয়। সেই রাতেই সন্ত্রাসীরা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমের বসত বাড়ীতে আগুন দেয়। আগুনে বসতবাড়ী ভস্মীভুত হয়। রাতে আগুন দেখে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের ঘটনা ঘটেছে ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন আলম জানান, গত মঙ্গলবার দিনভর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর পক্ষে নেপালতলী ইউনিয়নে বুজরু বাজার কদমতলী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করার পর রাতেই আমার বাড়ীতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে, তিনি কাউকে অভিযুক্ত করেননি। বগুড়া-৭ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী পরিচালক মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। কাউকে অভিযুক্ত করতে চাই না। আমাদের কর্মী ও নারী ভোটাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অবশ্যই আশা করি।’
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা জানায়, ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন এর দাঁড়িপাল্লা সম্বলিত নির্বাচনী বিলবোর্ড ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে দূর্বৃত্তের মাধ্যমে আমাদের স্থাপিত দাঁড়িপাল্লার বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। যারা এমন কর্মকান্ড করেছেন, তারা কখনোই সুস্থ্য মস্তিস্কের বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারে না। আমরা লক্ষ্য করছি নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যবহত করে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য, একটি গোষ্ঠি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানত দুটি দল জামায়াত এবং বিএনপি নির্বাচন করছে। সুতরাং জামায়াতের বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন যদি ভাঙ্গে বা নষ্ট হয়, তাহলে কার দ্বারা এটি সংঘটিত হয়েছে তা ভোটার এবং ঠাকুরগাঁও বাসির কাছে পরিস্কার। শুধু এক জায়গায় নয়, বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের বিলবোর্ড, ব্যনার, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়েছে। নতুন করে স্থাপনে বাঁধা দিচ্ছে বিএনপির ভাইয়েরা। আমরা স্পস্ট করে বলতে চাই, বিলবোর্ড ভেঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারকে ভোটারদের অন্তুর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব না। ভোটাররা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সারাদিন ব্যালটের মাধ্যমে প্রয়োগ করবে।
তিনি রিটানিং কর্মকর্তাদের নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, বিলবোর্ড ভাঙার সিসি টিভির ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজ দেখে অবিলম্বে দোষীদের সনাক্ত করে, দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এ ব্যাপারে জামায়াতের এমপি প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আপনার দলের নেতাকর্মীদের সামলান। আমরা হিংসা ছড়াবো না। তাদের এ ধরনের কর্মকান্ডই, তাদের পতনের মূল কারণ হবে। আমরা ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এ সকল আচরণের জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ্।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটা আঠারো মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বাড়ির অদূরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠের দক্ষিণ পূর্ব কোনে অবস্থিত জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এর দাাঁড়িপাল্লা বিলবোর্ডটি ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, মোটর সাইকেল যোগে হেলমেট পরা দুই যুবক এসে বিলবোর্ডটি ভেঙে ফেলছে। এ ঘটনায়, জামায়াত সমর্থিতদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের বারঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জামায়াত নেতাদের দাবি, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ বিএনপি ও ছাত্রদলের ২০/২৫ জন নেতাকর্মী ধানের শীষের স্লোগান নিয়ে হামলা চালায়। এতে সমাবেশস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর সমাবেশস্থলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী মাঠে বিরোধী মত দমনে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাও. হুমায়ুন কবীরের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়ায় মহিলা কর্মীদের উপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে গোপালপুর শাখার মহিলা জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন করেছে।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় গোহাটা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মহিলা জামাতের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোপালপুর থানার সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, গত সোমবার সকালে গোপালপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সূতী নয়াপাড়া গ্রামের বিএনপির চাঁন মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ৪-৫ জন, ভোট চাইতে যাওয়া মহিলাদের উপর হামলা করে। এবং তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। মহিলা কর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে সাইফুল ইসলাম বাবু মহিলা কর্মীদের গায়ে হাত তুলে।
এরই প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গোপালপুর পৌর জামায়াত প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
জামায়াতের গোপালপুর উপজেলা আমীর হাবিবুর রহমান তালুকদারের সভাপিিতত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন টাঙ্গাইল-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবীর, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা জামায়াতের টাঙ্গাইল জেলা সেক্রেটারি নাসরিন সুলতানা, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্যা রহিমা সুলতানা, গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি মোসাম্মৎ ফজিলা বেগম, উপজেলা মহিলা বিভাগের সহকারি সেক্রেটারি শিল্পী খাতুন, পৌরসভা পশ্চিম সেক্রেটারি জান্নাতুন নাহার, পূর্ব সেক্রেটারি শরিফা খাতুনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৭ শতাধিক সাধারণ মহিলা মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
এ সম্পর্কে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন- আমদের তদন্ত চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম বৈলগাঁও এলাকায় মহিলা জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অকথ্য গালিগালাজ এবং জামায়াত কর্মীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম নতুন বাজার এলাকায় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এই হামলা চালায়।
গত মঙ্গলবার সকাল ও সন্ধ্যায় উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম বৈলগাঁও ও নতুন বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বৈলগাঁও এলাকায় মহিলা জামায়াতের একটি প্রচারণা দল কাজ করছিল। এ সময় কোনো উসকানি ছাড়াই একদল দুর্বৃত্ত তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন-ইউনিয়ন জামায়াতের ইউনিট সেক্রেটারি মো. মনছুর, ওয়ার্ড জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইল এবং জামায়াত কর্মী বাদশা। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মো. ইসমাইলের স্যানিটারি দোকান ও বসতঘর, মো. মনছুরের ‘কুলিং কর্নার’ ও চায়ের দোকান এবং বাদশার পানের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। এসময় দোকান থেকে নগদ অর্থ লুটপাটেরও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউনিয়ন যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. ফারুখ আজম জানান, ‘সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বিএনপি নেতা মিজান মোল্লার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাণীগ্রাম স্কুল গেট এলাকা থেকে আমাদের লোকজনের দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং ফাঁকা গুলী ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলে রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উল্টো তাদের লোকজনকে বকাঝকা করেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা বিনা উসকানিতে আমাদের মহিলা কর্মীদের অবরুদ্ধ করেছে এবং পরবর্তীতে নতুন বাজার এলাকায় আমাদের কর্মীদের দোকানে হামলা চালিয়েছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হোক।’
রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাগচি বলেন, ‘ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার বিষয়ে আমি অবগত নই। বকাঝকার অভিযোগটি সঠিক নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এ ঘটনায় সেনাবাহিনী অভিযুক্ত মিজান মোল্লার বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি রামদা উদ্ধার করে থানা পুলিশের হেফাজতে দিয়েছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিজান মোল্লাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: বাঁশখালীতে জামায়াতের ইসলামীর লাগানো সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার ছিড়ে দিয়েছে মিজানুর রহমান নামে স্থানীয় এক বিএনপির কর্মী। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ছনুয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরপাড়ার টানা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান চরপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। মিজান বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ছনুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীরঅনুসারী।
মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ্যে গাছে উঠে ব্যানার নামিয়ে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছনুয়া-পুঁইছড়ি বেইলি সেতুর মুখে গাছের উপর লাগানো একটি ব্যানার মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি কেটে নিচে ফেলে দেয়। এসময় ব্যানারের সাথে থাকা কাঠি এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী গায়ে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেজাউল হাকিম বলেন, দাঁড়িপাল্লার ব্যানারের সাথে বিএনপির প্রার্থীপ্রার্থী মিশকাতুল ইসলামের ব্যানারের ফারাক ছিল প্রায় দুই ফুটের মতো। এরপরও তাদের ব্যানারের কাছাকাছি লাগানোর অজুহাত দিয়ে আমাদের ব্যানারটি ছিঁড়ে নিচে ফেলে দেয়। এসময় আমি বাধা প্রদান করলে আমার কোন কথা শুনেনি। তাই আমি ঘটনার ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেছি।
ছনুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবদুর রশিদ ছানুবী বলেন, সেনা ক্যাম্প থেকে ফোন করে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। আমরা বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কেও জানিয়েছি। বিএনপির লোকজন গায়ে পড়ে আমাদের সাথে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। ব্যানার ছিঁড়ে তো ভোট কমানো যাবে না। দাঁড়িপাল্লা তো মানুষের অন্তরে। নামিয়ে ফেলা ব্যানারটি আমরা আবার পাশের মসজিদের সামনে টাঙিয়েছি। আমরা শান্তি চাই। উত্তেজনা বাড়াতে চাইনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, কার ব্যানার কে ছিঁড়েছে আমি কিছুই জানি না। আমি চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছি। আমাকে সকাল থেকে বিভিন্ন সাংবাদিক ফোন দিচ্ছে। থানা থেকে ফোন দিচ্ছে। আমি তো এ বিষয়ে অবগত না। যারা আমার নাম বলছে, তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করুন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। ওখানকার স্থানীয় জামায়াত নেতারাও আমাকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। ভিডিওটি আমি ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটিকে পাঠিয়েছি। তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।