স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পবিত্র মাহে রমজান মানুষকে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এই মূল্যবোধগুলো বাস্তবায়িত হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সোমবার বিকালে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অ্যালামনাই ইফতার মাহফিল প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে যত বেশি ঈমানদার ও মুত্তাকী মানুষের সংখ্যা বাড়বে, সমাজ তত বেশি সুস্থ ও সুন্দর হবে। আর যদি এই সংখ্যা কমে যায়, তাহলে সমাজ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জাতি গঠনে প্রয়োজন মেধাবী ও চরিত্রবান তরুণ প্রজন্ম। আমরা ট্যালেন্ট চাই, কিন্তু কোনো ইভিল ট্যালেন্ট চাই না। আমরা চাই এমন মেধাবী তরুণ, যারা চরিত্রবান হবে, তাদের অন্তরে থাকবে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।

আমিরে জামায়াত আরও বলেন, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঈমানদার, দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ, সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই অ্যালামনাই সমাবেশ সেই অগ্রযাত্রারই একটি প্রমাণ।

তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পাঁচজন ছাত্রের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের জন্য কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে এই প্রতিষ্ঠানের তিনজন গর্বিত শিক্ষার্থী জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশসেবার সুযোগ পেয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে যারা নেতৃত্বের আসনে পৌঁছেছেন এবং ভবিষ্যতে যারা উঠে আসবেন, তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। মিল্লাত গঠনের পথে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দেবে-এটাই প্রত্যাশা।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণ, শিক্ষকরা সেই প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিন আর ছাত্ররা সেই ইঞ্জিনের কাঁচামাল। এই তিনটির সঠিক সমন্বয় ঘটলেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যিকারের আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জ্ঞান অন্বেষণের কোনো বিকল্প নেই। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিজেদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও চরিত্রে বলীয়ান হয়ে সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রদূত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট মাওলানা আতিকুর রহমান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল এহসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী, তুরাগ শিল্প গোষ্ঠী, আব্দুল্লাহ আল জাওয়াদ। পরে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে তুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী।

সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, গাজীপুর-৪ আপনের এমপি সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী,শেরপুর-১ আসনের হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী-৬ আসনের আঃ হান্নান মাসুদ।

আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গীর অধ্যক্ষ ডক্টর হিফজুর রহমান, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ঢাকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য আব্দুর রব, স বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সিবগাতুল্লাহ সিগবাহ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গাজীপুর মহানগরী, মো. হোসেন আলী এবং সেক্রেটারি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গাজীপুর মহানগরী, আ. স. ম. ফারুক।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপাধ্যক্ষ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী, মাওলানা মিজানুর রহমান। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চেয়ারম্যান, চ্যারিটি কেয়ার বাংলাদেশ ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, তা’মীরুল মিল্লাত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ডক্টর হাফিজুর রহমান।