যারা নির্বাচন আসলে মাথায় টুপি দেয় হাতে তসবি নেয় তারাই ধর্ম ব্যবসা করে। আমরা ইসলামী রাজনীতি করি। ইসলামের মূল নীতিতে আমরা একটি সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের নির্বাহী সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।

গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার চিটাগাংরোড ট্রাকস্ট্যান্ডে (সোনারগাঁ- সিদ্ধিরগঞ্জ) থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি আরো বলেন, আইয়ামে জাহিলিয়াতেও মানুষ মেরে তার উপর নৃত্য করার মতো ঘটনা ঘটে নাই কিন্তু আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সেই ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলনে ছিলাম। কেউ কেউ বলেছে এগুলো তো আলোচনার টেবিলে আছে তাহলে আন্দোলন করছেন কেন। কিন্তু আজ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পরেই একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর উপর গুলীবর্ষণ প্রমাণ করে আমাদের আন্দোলন সঠিক ছিল। যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। তারা যদি পোষা বিরোধী দল না হতো তাহলে হাসিনা সরকারের পক্ষে এতো বড় ফ্যাসিস্ট হওয়া সম্ভব ছিল না। কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করেই নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। আমরা যে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই এটা দুনিয়ার কোন তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে সম্ভব নয়। সেটা একমাত্র আল্লাহর প্রেরিত পদ্ধতি জীবন দিয়ে সম্ভব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘আমি যদি কাউকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করি তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, সমাজে ভালো কাজ চালু করবে এবং সমাজের খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে দিবে।’ কিন্তু এতোদিন যারা দারিত্ব পালন করেছে তারা আল্লাহর আইনকে কটাক্ষ করেছে। আল্লাহর আইনের বিপরীতের কাজগুলোকে উৎসাহ দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। অনেকে বলে আমরা নাকি ধর্ম ব্যবসা করি। যারা নির্বাচন আসলে মাথায় টুপি দেয় হাতে তসবি নেয় তারাই ধর্ম ব্যবসা করে। আমরা ইসলামী রাজনীতি করি। ইসলামের মূল নীতিতে আমরা একটি সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আঃ জব্বার বলেন, তফসিল ঘোষণার পর একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর উপর গুলীবর্ষণ করা কিভাবে, আমরা জানতে চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আগামীর বাংলাদেশ হবে সুদ-ঘুষমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ সত্য ন্যায়ের পক্ষে যারা নেতৃত্ব দিতে চায় তাদের পক্ষে থাকবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী বলেন, শহিদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বলছি। আজও বাংলার মাটি নিরাপদ হয়নি। কেউ কেউ বলেছিল খেলা হবে। তারা কিন্তু আজ মাঠে নাই। তাদেরকে বলছি আসো খেলা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকার বলেন, আল্লাহ চান তার মর্জি মতো এই দুনিয়াটা চলুক। কিন্তু আমাদের দেশ তার নীতিতে চলছে। তাই আল্লাহর রাজত্ব কায়েম করতে হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাইনি। কিছুসন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নাগরিকদের জীবন কে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমরা ভবিষ্যতে আর কোন সন্ত্রাস চাঁদাবাজ দেখতে চাই না। তাই জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নাই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের তদারককারী আবু সাঈদ মোঃ মুন্না বলেন, দেশকে উন্নত করতে হলে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব দরকার যেটা জামায়াতে ইসলামী ব্যতীত অন্য কোন দলে দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না। তাই জামায়াতে ইসলামীকে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হবে। সোনারগাঁ উপজেলার উত্তর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসহাক মিয়া বলেন, আজ আমাদের দেশের অলি গলিতে দুর্নীতি, অন্যায় ও অনাচারে সয়লাব। এগুলো থেকে মুক্তি পেতে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বিকল্প নাই। নাগরিক সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও সোনারগাঁ- সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও হাজার হাজার কর্মীবৃন্দ।