স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের হত্যায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের কঠোর হাতে দমনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এক বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান। এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আমরা সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃততকারীরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ।

ফখরুল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তাই এসব দুষ্কৃতকারীদের কঠোর হাতে দমনের বিকল্প নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নইলে ওঁতপেতে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।

বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান এবং নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ শোকার্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অনেক প্রার্থী থাকে, যাদের প্রত্যাশা থাকে, হয়ত তারা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মনোনয়ন পায়নি। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে সংসদে বহু দলের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হয়ত আমরা আমাদের অনেক যোগ্য প্রার্থীকেও বঞ্চিত করে ফেলছি। সুতরাং তাদের মনের কথা আছে, সেক্ষেত্রে কিছু কিছু বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে শান্তরাখার চেষ্টা করছি। আশা করি এসব বিষয়ে খুব শিগগিরই মীমাংসা হয়ে যাবে।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরের সময় কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না জানিয়ে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক আরো বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা এটা জাতির প্রত্যাশা। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা ধারণ করি। এবং আমাদের সেই চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। সেজন্যই তার সেখানে যাওয়া। এখানে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো বিষয় নেই।