আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪টি জেলায় ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক (এসটিও) মোতায়েন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)।
মঙ্গলবার ইইউ মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।
মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিনজুড়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।’
তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কাজের ধারাবাহিকতা। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনের কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন।
মিশনের পূর্ণ সক্ষমতা সম্পর্কে ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। এই বৃহৎ ও নিবেদিত মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মোট ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও সহযোগী দেশ থেকে ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক এই মিশনে যুক্ত হয়েছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। উভয় প্রতিবেদনই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আচরণবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা প্রদান করে।