স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবার শুধু কোনো আন্দোলনের অংশ নয়, তারা গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জীবন্ত ইতিহাস। এই পরিবারগুলোর পাশে বিএনপি ও জিয়া পরিবার সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে—এমন প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খ্যাতনামা চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল। এ দলের কাছে আগে দেশ ও দেশের মানুষ। শত ষড়যন্ত্র ও ঝুঁকির মুখেও বিএনপি কখনও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। গণমানুষের স্বার্থে দল সবসময় মাঠে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বৃহস্পতিবার ১২ জুন দুপুরে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তার আর এস ক্যাফে রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহত ১২ পরিবারের হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ডা. জাহিদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। সঞ্চালনায় ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী। বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর ইউসিসি চেয়ারম্যান এস এম মাহফুল হাসান হান্নান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের নেতা মাসুদ রানা, সদর বিএনপি নেতা তাহের মুসুল্লী, জয়নাল আবেদীন রিজভী,তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু জাফর সরকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ছয় জনের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং আহত ছয় জনের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

পরে ডা. জাহিদ হোসেন প্রয়াত শ্রীপুর পৌর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্ শহিদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি ধামলই গ্রামে গিয়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলে কারাবন্দি অবস্থায় নিহত বিএনপি নেতা হীরা খানের কবর জিয়ারত করেন ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

দিনের শেষভাগে তিনি কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৫ ব্যাচের আয়োজনে গণসংবর্ধনা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে স্মৃতিমেদুর কণ্ঠে তিনি তাঁর ছাত্রজীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, “নেতা হতে হলে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হয়। জনপ্রিয়তা আসে ত্যাগ, দায়বদ্ধতা ও নিষ্ঠা থেকে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “সামনে কঠিন সময় আসছে। তাই কাউকে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙতে দেয়া যাবে না। তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক শিক্ষক মোছলেম উদ্দিন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুর ইসলাম রানা। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডা. মাজহারুল আলম, পীরজাদা এস এম রুহুল আমিন, ডা. মোহাম্মদ আলী ছিদ্দিকী, শাহজাহান ফকির, আব্দুল মোতালেব, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, শেখ ইসহাক আলী, আশরাফ উদ্দিন, মজিবুর রহমান সুলতান, আলমগীর মাহমুদ আলম, বিল্লাল বেপারী, এমদাদ মণ্ডল ও আতাউর রহমান আতা।

আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা কাওরাইদের ঐতিহ্য ও একাত্মতাকে হৃদয়ভরে স্মরণ করেন।