নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বাড়িঘরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও বোমা বিস্ফোরণ করেছে। কর্মীদেরকে মারাত্মক আহত করার প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে জেলা জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকার ও সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ-০২ আসনের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়ন বি.এন.পির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, পিতা-আবদুর রশিদ মেম্বার, মো.স্বপন, পিতা- আবদুল মালেক, মোঃ জয়নাল, পিতা-আবদুস সাত্তার। নির্দেশ ও পরিকল্পনায় ঘাতক মো. নূর মোহাম্মদ (পাগলা মাস্তান), ইউনুছ, সুজন (ফালাইন্না) জয়নালের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-০২ আসনের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বড়াইপাড়া গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী কবির হোসের বাড়িতে অতর্কিত আক্রমণ করে, বোমা হামলা করে ত্রাসের সৃষ্টি করে। কবির হোসেনের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে এবং কবির হোসেনের পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আক্রমণ করে এতে জামায়াত কর্মী মো. কবির হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মূসা মিয়া, সানাউল্লাহ, মো ফারুক হোসেনের মাথা ঘাড় ও পিঠে দেশীয় অস্ত্রের কোপে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
উল্লেখ্য হামলার পূর্বে উচিৎপুরা ইউনিয়ন বি এন পির সভাপতি আনোয়ার হোসেন সোমবার সকালে কবির হোসেনের বাড়িতে এসে তাকে জামায়াতে ইসলামী পরিত্যাগ করে বি এন পিতে যোগদান করে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য বলে। আনোয়ার হোসেন প্রস্তাবে কবির হোসেন রাজী না হওয়ায় সে সন্ত্রাসীদের দ্বারা বাড়িতে হামলা করে ও কবির হোসেনের বড়ির লোকজনকে মারাত্মক আহত করে। কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং কর্মীদের মারাত্মক আহত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছে। জনগণের আকাক্সক্ষা হচ্ছে নতুন বাংলাদেশে আর কেউ অতীতের মতো সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী আচরণ করবে না। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী অচরণে জনগণ আতঙ্ক্তি। দিন দিন জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম আরো তীব্র করেছে। সারাদেশে নারী মা- বোনদের নিগৃহীত করা, তাদের গায়ে হাত তোলা এবং লাঞ্চিত করার কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জেও অব্যহত রেখেছে। সরকার একদিকে বলছে তারা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করতে চায় অপরদিকে বি এন পির দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রায় প্রতিদিন জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। জামায়াত ত্যাগ করে বি এন পিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করছে এবং যারা তাদের কথার প্রতিবাদ করছে তাদের বাড়ি ঘরে ন্যাক্কারজনক হামলা করছে।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, বি এন পির এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধক। ইতঃপূর্বে আরো বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘরে তারা আক্রমণ করেছে, অথচ আমরা প্রশাসনকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখছি না। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তারা জোর দাবি জানান।