দীর্ঘ ১৯ বছর পর স্ত্রীকে নিয়ে পিতৃভূমি বগুড়া ঘুরে গেলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী সফরকালে তিনি শহরে একটি জনসভায় অংশগ্রহণ এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন। বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমআর নামাজ আদায়ের পর মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান মাহী সওয়ার বলখী (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
তিনি বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর নওগাঁ থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশ করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন গুরুৎপূর্ণ নির্বাচন। আগে এ আসনে আম্মা এমপি ছিলেন। তখন আমি অনেক কাজ করেছি। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে থাকাকালে আমি বগুড়ার উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করেছি। তখন বগুড়ায় গ্যাস সরবরাহ, মেডিকেল কলেজ, রাস্তা সম্প্রসারণ সহ অনেক কাজ করেছি। কিন্তু আগামীতে হয়ত সেভাবে দেখা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, এমন কাজ করা যাবে না যে কারণে অন্য জেলা বঞ্চিত হয়। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে দোয়া চাই। আগামী নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় তারেক রহমানে স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীরা তারেক রহমানের নিকট অনেকগুলো দাবি তুলে ধরলেও তিনি এবিষয়ে একটি কথাও বলেননি। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবার রহমান ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনের আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের গোলাম মোঃ সিরাজ, বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারেক রহমান দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহবান জানান। বগুড়ায় রাত যাপন শেষে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সিএসএফ গ্লোবালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ডা. জোবাইদা রহমান ও তারেক রহমান উপস্থিত শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ জন শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তারেক রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং শিশুদের পরিবেশনায় মনমুগ্ধকর গান উপভোগ করেন। বগুড়ায় প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. জোবাইদা রহমান আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব শ্রেণির মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে এবং প্রত্যেকে তার ন্যায্য অধিকার পাবে।” অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান নিজ হাতে গড়া বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর তারেক রহমান দেশ সেবা করার সুযোগ পেতে সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, এই মসজিদের কাজ এখনো অনেক বাকি আছে। যেন সম্পন্ন কাজ শেষ করতে পারি সেজন্য দোয়া চাই। এরপর তিনি মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান মাহী সওয়ার বলখী (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। যাত্রা পথে মোকামতলায় একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
রংপুর অফিস : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামের ২৪ জুলাই যোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার সাথে শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন, বিএনপির জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দলের নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল সহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের আতœার কামনা করে দোয়া করেন।