প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর তিনি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং আশপাশের এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রচ- ভিড় দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান এই প্রথম নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এলেন। এর আগে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর একবার তিনি পল্টন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। গতকাল নয়া পল্টনে তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা হাতে খ- খ- মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন তারা। ‘তারেক রহমান আসছে, রাজপথ কাঁপছে’ এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের।

সময় যত গড়াতে থাকে লোকজনের উপস্থিতি ততই বাড়তে থাকে। পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকার সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নেন নেতা–কর্মীরা। তাঁদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড।

ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। বিভিন্ন ইউনিটের নেতা–কর্মীদের ঝটিকা মিছিল করতেও দেখা যায়। কথা হয় কোতোয়ালি থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মো. আসাদুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে আমাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করবেন।

উত্তরা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মনিরুল বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসবেন। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকে এখানে আছি।’ সড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় নয়াপল্টনের সড়কে। দলীয় পদ পদবি নেই, এমন অনেক বিএনপির সমর্থকরাও আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে। তেমনই একজন রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক। নিজেকে তিনি বিএনপির সমর্থক পরিচয় দিলেন। বললেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান দলীয় কার্যালয়ে আসবেন। একটু দেখতে আসলাম। উনাকে আগে কোনো দিন দেখিনি।

এদিকে, তারেক রহমানের আগমন কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা হয় ব্যারিকেড। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফের ডগ স্কোয়াড ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।