ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতো সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। সাম্প্রতিককালের ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে, নির্বাচন এতো সহজ হবে না। কাজেই আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নিয়ে না আসি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রত্যেকবার বিএনপি দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করেছে উল্লেখকরে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেকবার এই দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়েছে, কখনো শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে, কখনো খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে খাদের কিনারা থেকে দেশকে আবার বের করে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে থাকবে না। আরও খারাপ হতে পারে। তবে আমাদের ভয় পেলে, আতংকগ্রন্থ হলে চলবে না। মানুষদের সাহস দিতে হবে, নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হবো, আমরা যত সামনে এগিয়ে আসবো, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে।
চট্টগ্রামে ও ঢাকায় দুই ভোটের প্রার্থীর ওপর গুলীবর্ষনের ঘটনা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে ঘটনা ঘটেছে, ঢাকায় একটা ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা দিয়ে কেউ কোনো ফায়দা লুটার অবশ্যই চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তমদিনে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
কর্মশালায় খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকার সমস্যা,তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানি দুষণ রোধ প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনাগুলো এবং তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, আমি কি পেলাম, এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আজকে যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কি দিতে পারলাম, কি দিচ্ছি দেশ এবং জাতিকে, তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি, এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করা।
নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক বলেন, এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দয়া করে আসুন, এই যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে, এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী কে? বাংলাদেশের জনগণ। এদেরকে সাথে নিয়ে এই যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। আসুন তিনটি বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই। ইনশাআল্লাহ আমি পারবো। দেখা হবে যুদ্ধের মাঠে, দেখা হবে সংগ্রামের মাঠে, দেখা হবে আপনাদের সাথে ভোটের ময়দানে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় এই কর্মশালায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার’ হিসেবে অভিহিতি করে আমীর খসরু বলেন, এখন যার অপেক্ষায় বাংলাদেশ চেয়ে আছে। গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার তারেক রহমান ২৫ তারিখে বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ ফিরে আসবেন... এটা আমাদের আনন্দের সংবাদ। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খুবই দুঃখজনক। এই সময়টাতে যখন স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।