দেড় বছর পরিত্যক্ত থাকার পরে অবশেষে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে খুলনা আওয়ামী লীগ অফিসে। গতকাল রোববার বিকেলে একদল নেতাকর্মী নিচতলার কলাপসিবল গেটের তালা খুলে দোতলায় ওঠেন। তারা অফিস রুমের সামনের খোলা চত্ত্বরে মেইন রোড সংলগ্ন অংশের খুটিতে একটি জাতীয় পতাকা টানান। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার দুটি ছবি পাশাপাশি রেখে গলায় মাল্যদান করেন। তারা কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দেন। পরে নিচে নেমে এসে তালা লাগিয়ে চলে যান।

এদিকে খুব দ্রুত বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হয়। অনেকে ছবি তুলে, কেউ কেউ লাইভে ফেসবুকে প্রচার করেন। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে গেলে অনেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সোনাডাঙা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফের নেতৃত্বে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। পরিচিত মুখদের রাশেদ সরদার, জাহাঙ্গীর হোসেন ছিলেন।

তারা বলেন, চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের শেষ লগ্নে ৪ ও ৫ আগস্ট খুলনার বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও ভবনের মতো এই অফিসটিও ভেঙে তছনছ করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। সে সময় থেকে অফিসটি পরিত্যক্ত ছিল।

জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহমদ হামিম রাহাত বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই দিনের মাথায় এমন ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। সংগঠনটি আদালতের নির্দেশে সাময়িক নিষিদ্ধ। সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা স্থগিত। সে সময় এই দু:সাহস দেখানোর পেছনে নিশ্চয়ই কারো ইন্ধন আছে। নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুশিয়ার করেন।