এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই বাছাইয়ের দিত্বীয় দিনে বাতিল করা হয়েছে কুমিল্লার ৬টি আসন ১৬ জনের, গাইবান্ধার ২ টি আসনের ৮ জনের ও বরিশালের ৩ টি সংসদীয় আসনের ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন এছাড়া স্থগিত করা হয়েছে বরিশালের ২ প্রার্থীর মনোনয়ন।
কুমিল্লা অফিস
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার এগারোটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ছয়টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে কাগজপত্রে ত্রুটি পাওয়ায় এসব আসনের মোট ৬০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৪ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই প্রার্থী, তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের উপস্থিতিতে নির্বাচন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। যাচাই-বাছাই চলাকালে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র, সমর্থনপত্র, হলফনামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন
কুমিল্লা-১: আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, কাজী মো. ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ।
কুমিল্লা-২: আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমিজ উদ্দিন ও মো. মনোয়ার হোসেন।
কুমিল্লা-৩: আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ইউসুফ সোহেল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামান।
কুমিল্লা-৪: আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. করিম ও খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন।
কুমিল্লা-৫: আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল কাফি।
কুমিল্লা-৬: আসনে বাসদের কামরুন নাহার সাথী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হারুনুর রশিদ।
গাইবান্ধার দুটি আসনে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার গাইবান্ধা ১ (সুন্দরগঞ্জ )আসনের পাঁচজন প্রার্থী ও গাইবান্ধা ২ (সদর)আসনের তিনজন সহ মোট ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। গাইবান্ধা ১ সুন্দরগঞ্জ আসনের বাতিলকৃত প্রার্থীরা হলো জাতীয় পার্টির একাংশ মাহফুজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের রমজান আলী, জামায়াতের মাজেদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার ও মোস্তফা মহসিন।বৈধ প্রার্থীরা হলো বিএনপি’র ডাক্তার খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া ,জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী ,বাসদের পরমানন্দ দাশ, এলডিপির শরিফুল ইসলাম ও আমজনতা পার্টির কওছর আজম হান্নু ।
গাইবান্ধা ২ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলো কমিউনিস্ট পার্টির মিহির ঘোষ, খেলাফত মজলিসের গোলাম আযম ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল মাজেদ। যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন জামায়াতে ইসলামের আব্দুল করিম, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু, বাসদের আহসানুল হাবিব সাঈদ ও জনতা দলের শাহেদুর জাহান। গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে যাছাই বাছাইয়ে গাইবান্ধা ১ আসনের বাতিল হওয়া প্রার্থী জামায়াতের মাজেদুর রহমান বলেন, আমি সুন্দরগঞ্জে একটি কলেজে দীর্ঘদিন থেকে অধ্যাপনা করে আসছি ইতিপূর্বে শিক্ষকতা পেশা সহই আমি বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম ইসতোফা পত্র জমা দেয়া লাগেনি এবং মনোনয়ন পত্র বাতিল করাও হয়নি। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বর্তমান নির্বাচনী আইনে যারা শিক্ষকতা করেছেন তাদেরকে ইস্তফা পত্র জমা দিতে হবে, বিশেষ করে যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক। তিনি অবশ্য বলেছেন যাদের কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের যথেষ্ট সময় রয়েছে।
বরিশাল জেলায় প্রথম ধাপে ৩ টি আসনে ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত ২ :
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রথম ধাপে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত এরমধ্যে নগরীর আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন সিকদার লিটু (৩২) হত্যা মামলার অন্যতম আসামী মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টনের (৪০) উপস্থিতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের সাথে সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে আসা লিটু হত্যা মামলার ৫ নং আসামী মিল্টনকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময় এ দৃশ্য ফুটে উঠে।
সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের যাচাই বাছাইয়ে- বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের মোট ২১ জন প্রার্থীর জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম মনোনয়নপত্রের ২০ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর না করা এবং ২১ নম্বর পাতা পূরণ না করায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। একই আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটার তালিকা ও প্রস্তাবক-সমর্থকদের তথ্য সঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে দুটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন সনদ না থাকা, ১০ (বি) ফরম সংযুক্ত না করা এবং ছবি সত্যায়িত না থাকায় বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের মুসলিম লীগ প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
এছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং অঙ্গীকারনামায় অসংগতির কারণে, বরিশাল-৫ আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। আজ শনিবার বরিশাল-১, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, ‘প্রথম ধাপে তিনটি সংসদীয় আসনের মনোনয়ন যাচাই করা হয়েছে। এতে দুটি মনোনয়ন বাতিল ও দুটি স্থগিত করা হয়েছে।’ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি। বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৬২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪৮ জন প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।