ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকী ২দিন। এ সময়ে প্রার্থী ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দম ফেলার ফুরসত নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা কাজ করছেন। ভোটারদের কাছে উপস্থিত হচ্ছেন কথার ঝুলি নিয়ে। মাইকিং এবং পোষ্টারিং ছিল বিগত নির্বাচনের চিরচেনা রূপ। সময়ের পরিবর্তনের সাথে পালটেছে প্রচারণার ধরণ এবং কৌশল। এখন নির্বাচনি প্রচারণা দখল করেছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও দলীয় গান। এ সকল গান ভোটারদের হৃদয় আকর্ষণ করছে। নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনে ‘থিম সং’ প্রকাশ করে বিএনপি। থিম সংয়ের শিরোনাম ছিল ‘ভোট দিবেন কীসে, ধানের শীষে’। এ শিরোনামে ভোটারদের কাছে সহজেই বার্তা পৌঁছে দিতে থাকে দলটি। বিএনপির এ থিম সং প্রকাশের পর থেকেই ভোটের মাঠে চলছে উৎসবের আমেজ। গানটি দ্রুত লুফে নিচ্ছেন দেশের নতুন ভোটার এবং তরুণরাও।
বেশ কয়েকটি থিম সং অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করেছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থকরা। তাদের দলীয় গানের বিভিন্ন ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে জামায়াতে আমির, বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও দলটির প্রতীক। দাঁড়িপাল্লার একাধিক গান ঘিরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উচ্ছ্বাস। অপরদিকে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে থিম সং প্রচার করা হচ্ছে। ছোট মির্জাপুরের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, ‘ভোটের মাঠে এখন শুধু স্লোগান নয়, নির্বাচনি থিম সং হয়ে উঠেছে দলগুলোর আবেগি পরিচয়। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিনোদনমূলক গান প্রচার ও নিজস্ব কৌশলে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। গানগুলোতে কখনও সংগ্রামের স্মৃতি, কখনও উন্নয়নের স্বপ্ন আবার কখনও পরিবর্তনের ডাক রয়েছে।’ স্যার ইকবাল রোডের বাসিন্দা রুহুল আমীন জানান, ‘থিম সংগুলো ভোটারদের বেশ আকর্ষণ করেছে। গানের মাধ্যমে বিভিন্ন দলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছেন এবং ভোটারদের যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।’
এদিকে প্রায় দেড় যুগ পর জাতি তার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় উদ্বেলিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ, প্রবাসী ও হিন্দুদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলো। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর দৃশ্যপট খানিকটা পাল্টে গেছে। এবারের তরুণরা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, উন্নয়নের পক্ষে, প্রবাসীরা কল্যাণমূলক রাষ্ট্র এবং হিন্দুুরা নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে। শেষ সময়ে বড় দলগুলি ইশতেহার দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। বিশেষ পরিস্থিতিতে এলাকার অবস্থানজনিত কারণে লুকিয়ে থাকা এ দলের নেতারা সরবে-নীরবে পক্ষ নিয়েছেন।