বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর খুলনা-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান দৌলতপুর থানাধীন ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগকালে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন, খোঁজখবর নেন এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানা আমীর মোশাররফ আনসারী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি ডা. সাইফুজ্জামান, আনিসুর রহমান মন্টু, সরকারি বিএল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির, ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী প্রচার সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, সরকারি বিএল কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল্লাহ বুখারী, দৌলতপুর থানা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবরার হোসেন, দৌলতপুর থানা কর্মপরিষদ সদস্য হাসানুজ্জামান, ৬নং ওয়ার্ড আমীর আমিনুন ইসলাম, ছাত্রশিবির ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাশেম, ৫নং ওয়ার্ড আমীর জাকিরুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ড আমীর রেজাউল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি খান মাহবুবুর রহমান, ছাত্রশিবির সরকারি বিএল কলেজ শাখার প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাকিবুজ্জামান, ইস্তিয়াক আহমেদ, জাহিদ হাসান, রেদোয়ান, হাফিজ, শেখ রায়হান, হাফিজুর রহমান পিন্টু, খান লাভলু, খান মোস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ, শ্রী রাম, রনজীৎ, কৃষ্ণ, জাহিদুল ইসলাম, শাহীন, গাজী ওহিদুল ইসলামসহ বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, দৌলতপুরের মানুষের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মা-শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসা পরিবেশের অভাব। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাস্তবভিত্তিক ও জনমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি শিশু, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ, মা-বোনদের মূল্যবান ভোট ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতীক নয়-এটি ন্যায়, সততা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক।”

শ্রমজীবী মানুষের কাছে গিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আপনাদের ভাই ও সহযোদ্ধা। শ্রমিকের ঘামের মূল্য এ দেশ বারবার উপেক্ষা করেছে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে আপনাদের পাশে থাকবো, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি দেশ গঠনে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং বেকারত্বের শৃঙ্খল ভেঙে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। তোমাদের শক্তি ও সততাই দেশকে এগিয়ে নেবে। আমরা নির্বাচিত হলে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তরুণদের শক্তিতে পরিণত করা হবে।”

নারী শিক্ষার বিষয়ে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রীদের সহায়তা, ঝরে পড়া ছাত্রীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারকে শিক্ষাবান্ধব করতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।”

নারীদের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং ঘরে বসে কাজের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।” বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের নারীদের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, গর্ভকালীন ও প্রসূতি সেবায় বিশেষ নজর দেওয়া এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কাজ করা হবে।

গণসংযোগ শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় জনগণ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জনসমর্থনের এই ধারাবাহিকতায় নেতৃবৃন্দ দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন “ইনশাআল্লাহ খুলনা-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা জিতবেই।”