একেএম আবদুর রহীম, ফেনী : ফেনীর তিনটি আসনে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পাল্টে যেতে পারে সকল হিসেব নিকেশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণাসহ নানা কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তিনটি আসন নিতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে আশাবাদী বিএনপিও।

জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৩০৫ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ছয় লাখ ৩৭ হাজার ৯২৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৪ জন। তিনটি আসনে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৩০ হাজার ১৫১ জন প্রবাসী। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনটি আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ৪২৮টি।

তিনটি আসনেই হাতপাখা ও বটগাছের কিছু সংখ্যক ভোটব্যাঙ্ক আছে। যা শেষ মুহূর্তে বিএনপি জামায়াতের জোটের প্রার্থীর পক্ষে সিংহভাগ চলে যাবে বলে অনেকে মনে করেন। তারপরও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মতে, জেলার তিনটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের প্রার্থীদের সঙ্গে ফেনী-১ ও ৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা আর ফেনী-২ আসনে জোটের প্রার্থী ঈগলের সাথে।

ফেনী-১ আসন : ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা এবং দুটি পৌরসভা নিয়ে ফেনী-১ আসন গঠিত। দেশের জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান এবং নানা কারণে ফেনীর সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৩ সালের পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এরই মধ্যে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত তিনটি প্রহসনের নির্বাচন বাদে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেগম জিয়াই এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। এরমধ্যে ২০০১ সালে উপ-নির্বাচনে ছোট ভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দরকে আসনটি ছেড়ে দেন। এরপরে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে খায়রুল বশর মজুমদার তপন মনোনয়ন পেলেও জোটের কারণে জাসদ (ইনু) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারকে আসনটি ছেড়ে দেন। এর ফলে টানা দুবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন শিরিন। ২০২৪ এর নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনার সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে একইভাবে এমপি হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম মজনু।

বেগম জিয়া জীবিত থাকলে এই আসনের হিসাব নিকাশ এক রকম হতো। তাঁর অবর্তমানে অতীতের মতো এতো সহজে তরী পার হতে পারছেন না বিএনপি প্রার্থী- এমনটিই বলছেন ভোটাররা। কারণ হিসেবে অনেকের মতে ধানের শীষের প্রার্থী এ আসনের বাসিন্দা নন। তার বাড়ি সদর উপজেলায় আর রাজনীতি করেন ঢাকায়। বিপরীতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী স্থানীয় এবং অধিকতর যোগ্য।

খালেদা জিয়ার ইমেজ ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির প্রার্থী—এমন অভিযোগ তুলে অনেকে বলছেন, ৫ আগস্টের পর বালুমহালের দখল, চাঁদাবাজিসহ নানাভাবে বির্তকের জন্ম দিয়েছেন বিএনপির কিছু নেতা। তার প্রভাব নিশ্চিত ভাবেই পড়বে নির্বাচনে।

আসনটিতে মোট প্রার্থী সাতজন। এর মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির প্রার্থী দলের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম (ধানের শীষ) জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঞা (বটগাছ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন)।

এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৮১ হাজার ১৬২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ৮৯১ জন, নারী এক লাখ ৮৫ হাজার ২৬৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের দুজন। মোট ভোটকেন্দ্র ১২১টি।

এডভোকেট কামাল উদ্দিন বলেন, মানুষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাটি খেকো আর বালু খেকোদের তান্ডবে অতিষ্ট। তারা পরিবর্তন চায়। তাই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে দিন যত যাচ্ছে তত জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দুইবার বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। তার আসনে ধানের শীষ এবারও নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে।’

ফেনী-২ আসন : জেলার তিনটি আসনের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ফেনী-২ আসন। কারণ এ আসনের এমপিই হয়ে ওঠেন জেলার নিয়ন্ত্রক। সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি দুইবারই মাত্র এ আসনে জয়ী হতে পেরেছে। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ জিতেছে বাকি সব নির্বাচনে। জাসদ একবার জিতলেও জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল) বিএনপিতে যোগদান করার পর দলটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়ে। বিএনপি ভিপি জয়নালের হাত ধরেই আসনটিতে ভাগ বসায়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী।

এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন আলোচিত গডফাদার জয়নাল হাজারী। ২০০১ সালে সেনা অভিযানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর তার জায়গা দখলে নেন নব্য গডফাদার নিজাম হাজারী।

জোটের কারণে হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে আসনটি। ১০ দলীয় জোটের হয়ে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঞা (মঞ্জু)। একসময়ের ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তিনি। জামায়াত কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে ঈগল মার্কার পক্ষে। সে ক্ষেত্রে ধানের শীষের প্রার্থীর ঘাম ঝরাতে হচ্ছে মাঠে। প্রার্থীর শারীরিক অবস্থাসহ নানা কারণে আসনটি নিজেদের ঘরে রাখাটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিএনপির ভোটাররা। জামায়াত আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বিশাল নির্বাচনী জনসভার পর থেকে ঈগল মার্কার পক্ষে গণজোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আসনটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৩২ হাজার ৫৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২২ হাজার ৬৮৩, নারী দুই লাখ ৯ হাজার ৩৭০ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন তিনজন। ভোটকেন্দ্র ১৪৬টি। এ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২ জন। এরমধ্যে বিএনপির জয়নাল আবেদিন (ধানের শীষ), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঞা (ঈগল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জসিম উদ্দিন (কাচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী তাহিরুল ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ), গণঅধিকার পরিষদের তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক), আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) এবং স্বতন্ত্র মো. ইসমাইল (ঘোঁড়া)।

ফেনী-৩ আসন : আসনটি দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন এবং সোনাগাজী উপজেলার এক পৌরসভা ও ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। অনেক আগেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডাঃ ফখরুদ্দিন মানিককে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করায় মাঠ অনেকটা গোছানো জামায়াতের। প্রতিটি বাড়িঘরে পৌঁছানোর পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের মধ্যদিয়ে মানুষের খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। এছাড়া দলের মধ্যে ঐক্য থাকায় বাড়তি সুবিধায় রয়েছে জামায়াত। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ক্লিন ইমেজের প্রার্থী ডাঃ ফখরুদ্দিন মানিক।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রচারণায় এসেছেন সবার শেষে। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রায়ই প্রকাশ্য সংঘাতের রূপ নেয়ায় তিনি প্রথম থেকেই কিছুটা বেকায়দায় আছেন।

সব শঙ্কার মধ্যেও মিন্টু ও ফখরুদ্দিন একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রথমবারের মতো এমপি পেতে যাচ্ছে দাগনভূঞা। এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে ফেনী সদর, সোনাগাজী, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে আসনে যুক্ত থাকলেও একবারও দাগনভূঞা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়নি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আবুল বাসার, ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ও ২০১৮ সালে আকবর হোসেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে রিন্টু আনোয়ার, ১৯৭০, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত থেকে মকবুল আহমদ নির্বাচন করলেও কেউ এমপি হতে পারেননি। এছাড়া সব নির্বাচনেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে দাগনভূঞা থেকে একাধিক প্রার্থী ভোটে অংশ নিলেও প্রতিবারই অন্য উপজেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আসনটির সীমানা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ছিল সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়ে ফেনী-২ আসন থেকে দাগনভূঞাকে কেটে ফেনী-৩ আসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এ আসন দাঁড়িয়েছে সোনাগাজী উপজেলার একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন এবং দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে।

১৯৯১ সাল থেকে পরপর পাঁচবার বিএনপি সমর্থিত (ধানের শীষ) প্রার্থী এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপির ভোট বর্জনের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সে নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির নেতা রিন্টু আনোয়ার। নির্বাচনি পরিবেশ ঘোলাটে থাকায় তিনি ভোট বর্জন করলে এমপি নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহ। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে গেলেও আগের রাতের ভোটের কাছে হেরে যান ধানের শীষের প্রার্থী আকবর হোসেন। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে ১৪ দলের প্রার্থী হয়ে এমপি হন লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। চব্বিশের নির্বাচনে ডামি প্রার্থী করিয়ে আগের রাতে ভোটগ্রহণ করে জয়ী হন মাসুদ।

আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন। এদের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ জন, নারী দুই লাখ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের দুজন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৬১টি।

জেলার তিনটি আসনের মধ্যে এ আসনেই এবার ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আটজন। তারা হলেন বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু (ধানের শীষ), জামায়াতের ডা. ফখরুদ্দিন মানিক (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ), জাতীয় পার্টির আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু নাছের (চেয়ার), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবদুল মালেক (মই) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী হাসান আহমেদ (আপেল)।

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের তিনটি আসনের প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এতে তিনজনই ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “ফেনী ‘বিএনপির ঘাঁটি’। দলীয় প্রার্থীর জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে।”

ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে ২ ও ৩ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে যা জামায়াত জোটে নেই। ফলে এদিক দিয়ে জামায়াত জোট প্রার্থীগণ সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছেন।