দেশের মানুষ আর কোনো প্রতারক ও বেইমানের কাছে দেশের ক্ষমতা এবং দায়িত্ব দিতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার সাভারের শাহীবাগ এলাকায় মাতৃবাগান জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছিÑএকটি জোট, যাকে আর জোট বলা যাবে না, একটি দল, যে অনেকগুলো দলকে নিজের পেটের ভেতরে নিয়ে নিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র নষ্ট করে দিয়েছে। সেই দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।’ ‘আমরা বলছিÑসেই হুমকি, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই আমরা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছিলাম। আমরা কোনো হুমকি এবং রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না’, বলেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সেই দলের নেতা যখন দেশে এসে নামলেন, তিনি বললেন তার একটি প্ল্যান আছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। প্ল্যান থাকলে শেয়ার করুন, আমরা চাই বাংলাদেশে পরিবর্তন হোক। আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, তিনি কোথায় চিনিকল আছে, কোথায় নেই, কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় নেই, কোনটা বাণিজ্যিক রাজধানী, কোনটা কী হবে, কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়Ñতিনি কিছুই জানেন না।’ যার দেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, যিনি ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, তার দেশ নিয়ে কী প্ল্যান আছে, তা দেশের জনগণ ইতোমধ্যে বুঝে গেছে বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘এমন কোনো প্ল্যান করবেন না, যা বাংলাদেশকে আবারও পিছিয়ে নিয়ে যাবে। এমন কোনো প্ল্যান আমরা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেব না, যা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করবে, আবার আধিপত্যবাদী রাজনীতি তৈরি করবে। নিজেদের জীবন থাকতে আমরা সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন হতে দেবো না।’ তিনি বলেন, ‘একটা কথা বলা হচ্ছেÑঅভিজ্ঞতা, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। তো রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আপনাদের কী ছিল, এটা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। এই অভিজ্ঞতা কোনো ভালো অভিজ্ঞতা না।’
নাহিদ বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। জামায়াতে ইসলামী সেই মন্ত্রণালয়ে, ক্যাবিনেটে ছিলÑতারাও সেটির অভিজ্ঞতা নিয়েছে। ফলে আমরা সেই পুরোনো কথা বলে আপনাদের বিব্রত করতে চাই না। ৫ আগস্টের পর আপনারা বাংলাদেশে যা করেছেন, এটাই যথেষ্ট আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার।’ যাদের নিয়ত ঠিক আছে, অন্তরে দেশপ্রেম আছে, সততা আছে, দক্ষতা আছেÑসরকার পরিচালনায় তাদের অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘এই ১১ দলীয় জোটÑএটা একটা জোটের সরকার হবে। যেখানে নানামুখী মানুষ রয়েছে, নানা মতের মানুষ রয়েছে এবং দেশ-বিদেশ থেকে আরও অভিজ্ঞ মানুষ এনে এই সরকার পরিচালনা করা হবে। আমরা দেশের অভিজ্ঞ এক্সপার্ট মানুষদের নিয়ে ইশতেহার তৈরি করেছি। এনসিপি ইশতেহার তৈরি করেছে, জামায়াতে ইসলামী ইশতেহার তৈরি করেছে। আমরা সকল ইশতেহার সমন্বয় করে বাংলাদেশের সামনের সরকার পরিচালনা করব।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কেউ সেদিন ভোট চুরির চেষ্টা করলে, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি ‘ফ্যাসিস্ট’-দের মতোই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের মানুষ নতুন কোনো জালেমের আবির্ভাব দেখতে চায় না উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ চায় পরিবর্তন, সংস্কার, ইনসাফ। ৫ আগস্টের পর নতুন কোনো জালেমের আবির্ভাব দেশের মানুষ দেখতে চায় না।’ সংসদে যদি আবারও ঋণখেলাপিরা যায়, যাদের বিদেশি নাগরিকত্ব আছে তারা যদি সংসদে যায়, তাহলে দেশের কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া, শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারাÑঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলার আমীর দেলোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি আফজাল হোসাইনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।