চব্বিশের গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদকে ভারতে পাঠানো হয়েছে। সেই অভ্যূত্থানে ১৪০০-এর অধিক ছাত্রজনতা জীবন দিয়েছে এবং ৩০ হাজারের অধিক মানুষ রক্তাক্ত হয়েছে। সেই গণঅভ্যূত্থানকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা বর্তমান সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই- আইনি খেলা খেলতে চাইলে অবস্থা ফ্যাসিবাদের দল আওয়ামী লীগের মতোই হবে। এই কেঙ্গারু আদালতের বিরুদ্ধেই কোটা আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং জুলাই নেমে আসছিল। একই আদালত দিয়ে এবার জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। রক্তে কেনা জুলাই সনদকে ভণ্ডল করে দিতে নানা ধরনের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাইয়ের অধিকার রক্ষায় সব চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে। সরকারের সব ধরণের অবৈধ পদক্ষেপ রুখে দিতে প্রস্তুত আছে গণঅভ্যূত্থানের স্পিরিট ধারণ করা মোর্চা জুলাই ঐক্য।
আমরা দেখতে পাচ্ছি- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ স্থগিত করার জন্য রিটে জুলাই সনদ, গণভোট, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ গ্রহণকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। জুলাই প্রশ্নে বিএনপির এই অবস্থান জাতির সাথে সরাসরি গাদ্দারির শামিল।
দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে - এই রিটের পেছনে সরকারের স্পষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। রিট পিটিশনারের পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন; তিনি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সদস্য সচিব। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। মাহফুজুর রহমান মিলন বিএনপির প্যানেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং বিএনপি দলীয় আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত।
আমরা দেখতে পাচ্ছি- এই সরকার শুধু জুলাইয়ের উপর আঘাত করেই থেমে থাকছে না। সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র সংস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে মব সৃষ্টি করে গভর্নরকে বের করে দেওয়া, দুদকের প্রধান কমিশনারসহ কমিশনারদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং প্রশাসনকে দলীয় করণের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার সংস্কার প্রস্তাবকে পার্লামেন্টকে বাইপাস করে কোর্টের মাধ্যমে সেটেল করে এক ধরনের স্থিতাবস্থা বা এক ধরনের সুবিধা নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। একদিকে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছে, অপরদিকে আদালতে দলীয় বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে দ্বিচারিতা করছেন। সরকার এসব অসাংবিধানিক ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে সরে না এলে এবং দ্বিচারিতা আচরণ বন্ধ না করলে জনগণ গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করবে।
সরকারের প্রতি জুলাই ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে, অবিলম্বে প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসন করে গণহত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে বিচারের আওতায় আনুন। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে নিয়োগ দিন। জুলাইয়ের বহু শহিদের লাশ এখনও পরিবার বুঝে পায়নি; এর আগেই রাষ্ট্র সংস্কারের পথে যে নগ্ন হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করুন। সংবিধানের যে দোহায় দেওয়া হচ্ছে সে সংবিধান মানেই গণঅভ্যূত্থান হয়নি — এই সরকার জুলাইয়ের ফসল। জুলাই যদি না থাকে, তাহলে এই নির্বাচন ও সরকারেরও বৈধতা থাকবে না।
সরকার যদি বল প্রয়োগ করে ভারতের বা অন্য দেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, তাহলে আমরাও জুলাইয়ে ফিরবো। আমরা ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে বিপ্লবের পথে হাটবো। সব বিদেশী রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জুলাইয়ের অধিকার আদায় করা হবে।