গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা : স্বাধীনতার পর থেকে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনটি অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগের কব্জায় ছিলো। পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনি সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুুই উপজেলায় সমানতালে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এমপি প্রার্থীরা। জনগণের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে।
জানা যায়, এ আসনে এ পর্যন্ত সাতবার আওয়ামীলীগ, তিনবার বিএনপি ও দুইবার জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালে রাজশাহী বিভাগের একমাত্র এ আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর আওয়ামী লীগ এখন মাঠছাড়া। ফলে লড়াই চলছে দীর্ঘদিনের দুই মিত্র বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন তা নির্ভর করছে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের পারফরমেন্সের ওপর। তবে আওয়ামীলীগের কিছু ভোটও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ (ধানের শীষ) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী। তিনি ইতিপূর্বে তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয়তার কারণে স্বতন্ত্রে দাঁড়িয়েও বিপুল ভোটে গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এসব কারণে তার যথেষ্ট পরিচিতি আছে।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম (দাঁড়িপাল্লা) বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি দুইবার বনপাড়া পৌরভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর দুই উপজেলাতেই তার যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির ইউসুফ আহমেদ (লাঙ্গল), এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিন (ঈগল) ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা এমদাদুল্লাহ (হাতপাখা) মাঠে থাকলেও প্রচার-প্রচারণনার গতি খুবই মন্থর।