পটুয়াখালীর বাউফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বাউফল উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দেড়শ জনকে উপহার প্রদানের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভাপতিত্ব করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে ভাগাভাগি করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে অনুদান দিয়েছেন, তা কিন্তু সারা বাংলাদেশের এমপিদের দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের এমন অনেক এমপি আছেন যারা জনগণের মাঝে টাকা বিলিয়ে দিচ্ছেন না। এই বাউফলে বিগত দিনেও এমন অনুদান এসেছে, যা আপনারা জানতেন না।

তিনি আরো বলেন, এবার আপনারা সততা ও যোগ্যতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, সেজন্যই অনুদান আপনারা পাচ্ছেন। অন্য দলের হলে শুধু দলের কর্মীদের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আজ আমাদের এখানে যারা আসছেন, সবাই হয়তো আমাদের দলের লোকও না। অনেকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেননি। আমরা তাদেরকেও এখানে এনেছি। কারণ আমার সাথে যে জুলুম করেছে, তার সাথেও আমি ইনসাফ করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, সম্মানিত বাউফলবাসীর পক্ষ থেকে আমরা যা পাই তা তো দেই, বরং আমাদের পকেট থেকে আরো দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক এমপি আছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যা আসে তা খাওয়ার পরে আরো কিভাবে খাওয়া যায় সেই চিন্তা করেন। সুতরাং যার কারণে আমাদের এমপিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, আর মন্ত্রীদের বেলায় তো কোনো কথাই নেই।

“অতীতে আমরা দেখেছি বাউফলে যারা এমপি ছিলেন তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু দুনিয়াতে যারা অসহায়-দুঃস্থ তাদের কাছে তারা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। কেউ তাদের কাছে পৌঁছালেও তাদেরকে অপমান, লাঞ্ছিত এবং অপদস্ত করা হয়েছে।”

এমপি বলেন, আজকে যারা এখানে উপহার নিতে এসেছেন, আমাদের ভালো লাগতো যদি আপনাদের বাসায় গিয়ে আমরা পৌঁছে দিয়ে আসতে পারতাম। এখানে যারা আসছেন তারা কিন্তু সবাই জামাত করেন না।

“আমরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দলের, কোনো বর্ণের, কোনো ধর্মের বিবেচনা করি না। আমরা বিবেচনা করি দুঃস্থ, গরিব ও অসহায় ক্যাটাগরিতে পড়েছে কিনা। আর এটাই আমাদের নৈতিক এবং ঈমানী দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের প্রত্যেকটা ইউনিয়নের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে এই ১০ লক্ষ টাকা চলে যাক। এতে না হলে আমরা এর সাথে আরো যুক্ত করব। এবং ইতিমধ্যে এটা আরো করতে হয়েছে।

“১০ লক্ষ টাকার চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার লোকের। এখন কেউ কি পঞ্চাশ হাজার লোকের মাঝে ১০ লক্ষ টাকা দিতে পারবেন? অনেকে বলবে শফিকুল ইসলাম মাসুদ ইনসাফের কথা বলে, কিন্তু আমি তো টাকা পেলাম না। যেকোনো একটা জিনিস সবাই একসাথে কখনোই পায় না। কিন্তু আমি আজ আপনাদের বলছি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আপনাদের হাতে এভাবে টাকা পৌঁছে দেওয়া কি কেউ করেছে? করেনি। এটা আমরা শুরু করেছি।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা ভদ্রতাকে পছন্দ করি, আমরা নম্রতাকে পছন্দ করি। কিন্তু কেউ যদি এটাকে আমাদের দুর্বলতা ভাবে, আমাদের ঘাড়ে উঠে লাফালাফি করে, তাহলে আমরা ঘাড় থেকে নিচেও ফেলতে পারি। এটা যে আমরা পারি তা দেখিয়েছিলাম। ভোটের মাধ্যমে আমাদের পরাজিত করা সম্ভব নয় এটা জানতে পেরে কেউ কেউ গায়ের জোরে জিততে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা থানা ঘেরাও করে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের বলেছিলাম, আমাদের বাউফলে এবার আর কোনো ভয়কে আমরা মাথায় উঠতে দেবো না।”

“সুতরাং কেউ যদি মনে করেন বর্তমান এমপি একটু দুর্বল মনে হচ্ছে, বর্তমান এমপিকে যা খুশি তাই করা যাচ্ছে, তাহলে আপনারা ভুলের মধ্যে আছেন। যদি আবার আমরা প্রয়োজন মনে করি আপনাদের এই অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের রাজপথে নামতে হবে, তাহলে প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামবো। তারপর আপনাদের জুলুম এবং অত্যাচারের প্রতিবাদ আমরা করবো।”

তিনি বলেন, “আমরা কোথাও কোথাও লক্ষ্য করেছি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্নীতি করছেন। আমরা প্রশাসনকে লক্ষ্য রাখতে বলেছি। যার যার এলাকায় খাল থেকে শুরু করে যেকোনো প্রকল্পের দুর্নীতি হলে আপনারা ধরে ফেলবেন। প্রশাসনকে খবর দিবেন। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব ইনশাআল্লাহ।”

“বাউফলটাকে আমরা শান্তি দিয়ে রাখতে চাই, কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে চাই। আমাদের সাথে কোনোভাবে না পেরে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। আপনাদের এই কুৎসার জবাব আমরা কুৎসা দিয়ে দেবো না, আপনাদের গালির জবাব আমরা গালি দিয়ে দেবো না, আপনাদের অপমানের জবাব আমরা অপমান দিয়ে দিবো না। আপনাদের সমস্ত কিছুর জবাব আমরা ভালো কাজের মধ্য দিয়ে দেবো। সুতরাং আসুন, আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাউফল গড়ার লক্ষ্যে একে অপরের হাত ধরে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করি।”

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান নজরুল, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, নাজিরপুরের তরুণ সমাজসেবক সিদ্দিকুল্লাহ সহ অন্যরা।