ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকী ৭ দিন। নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীরা বিজয় নিশ্চিত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুক্রবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণভোটে সকলকে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন। গণভোটে হ্যাঁ’তে ভোটের আহ্বান তার দলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোট দেওয়ার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মোট ২৫ হাজার ৮৪৬ জন ভোটার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। প্রবাসী ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্য, জেল হাজতে থাকা আসামী এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এই তালিকায় রয়েছে।
কমিশনের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব আসনেই নারীদের তুলনায় পুরুষ ভোটারদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যাচাই-বাছাই শেষে খুব অল্পসংখ্যক আবেদন অননুমোদিত হয়েছে। আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা-৩ আসনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২২৮টি পোস্টাল ভোটের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৩১১ জন এবং নারী ৮৯৭ জন। যাচাই শেষে ৫ হাজার ২০৭টি আবেদন অনুমোদিত হলেও ২১টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। খুলনা-৪ আসনে মোট আবেদন ৪ হাজার ৫৯০টি। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৬৭৩ জন এবং নারী ৯১৭ জন। যাচাই শেষে ৪ হাজার ৫৭৪টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, আর ১৬টি আবেদন অননুমোদিত হয়। খুলনা-৫ আসনে পোস্টাল ভোটের আবেদন জমা পড়েছে ৪ হাজার ৩২১টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ২৭৬ জন এবং নারী ১ হাজার ৪৫ জন। এই আসনে যাচাই শেষে মাত্র ৯টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা-২ আসনে মোট ৪ হাজার ৯৫৫ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯৫৪ জন এবং নারী ১ হাজার ৯৯১ জন। যাচাই শেষে ৮টি আবেদন অননুমোদিত হয়। তুলনামূলকভাবে কম আবেদন পড়েছে খুলনা-৬ ও খুলনা-১ আসনে। খুলনা-৬ আসনে মোট আবেদন ৩ হাজার ৮৮৪টি। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৩১ জন এবং নারী ৮৫৩ জন। এখানে ৬টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে খুলনা-১ আসনে, যেখানে পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছেন ২ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৯৬৪ জন এবং নারী ৯০৪ জন। এই আসনে কোনো আবেদন অননুমোদিত হয়নি।
এবার প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। খুলনা-৬ আসনের ভোটার ফরহাদ হোসেন কাতার থেকে বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর প্রবাসে আছি। কোনোবারই ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দিতে পারছিÑ এটা এক ধরনের আনন্দ। এবারই মনে হচ্ছে আমিও বাংলাদেশের নাগরিক। আমি আমার নেতা নির্বাচন করতে পারবো। খুলনা-৫ আসনের প্রবাসী ভোটার মহিউল ইসলাম বলেন, এতদিন মনে হতো শুধু শ্রমিক। এবার ভোট দিতে পারছি বলে মনে হচ্ছে আমিও বাংলাদেশি। এ ব্যাপারে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো. সোহেল সামাদ জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের একটি বড় অংশ এবছর পোস্টাল ভোটের আবেদন করেছেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উল্লেখযোগ্য হারে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, আবেদন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় কিছু ভোটার ব্যালট পাননি, তবে সেই সংখ্যা খুব বেশি নয়।