কারিমুল হাসান, ধুনট, বগুড়া, সংবাদদাতা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনে বইছে নির্বাচনী গরম হাওয়া। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীদের তৎপরতা ততই বাড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ ছাড়া গানের তালে-তালেও ভোট চাওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট প্রতিকের পক্ষে। তবে ইসির নতুন নিয়মে এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার না থাকায় প্রার্থী ও সমর্থকরা কৌশলগত ভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেই একটু বেশিই গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে গিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মীর মো. মাহমুদুর রহমান চুন্নু (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি মনোনীত প্রার্থী খান কুদরত-ই-সাকলায়েন (ছাতা) প্রতিকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনী জনসভা, পথসভা, পরামর্শমূলক সভা, গণসংযোগ, মিছিল, উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ আসনের দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা।
তবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ও সর্মথকদের প্রচারণায় সাধারণ মানুষের ভাবনার একটি গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিশিষ্ট জনেরা। ভোটের সমীকরণের আগেই প্রচারণার সমীকরণে মাঠ কাঁপিয়ে তুলেছেন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রচারণা। প্রার্থী ও সমর্থকরা নিজ অবস্থান থেকে জয়ের আশাবাদী। গ্রাম গঞ্জের হাট, পাড়া, মহল্লায় এমনকি চা স্টলে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। ধুনট ও শেরপুর ২টি উপজেলাতেই সাধারণ মানুষের ভাবনায় ঠিক একই চিত্র ভেসে ওঠে। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় হ্যাভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদেরও একই ভাবনা। সব মিলিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনে বইছে নির্বাচনী গরম হাওয়া।
এই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারদের উপর নির্ভর করেই জয়ের আশা দেখছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭, নারী ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জনসহ মোট ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৮০ জন ভোটার রয়েছে।
এই আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। নির্বাচনী প্রচারণায় বিজয়ের ধ্বনি স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে উঠান বৈঠক গুলো। ভোটারদের সমীকরণে ধারণা, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনি এমপি থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আসনটিতে বিএনপির সুসংগঠিত ভোট ব্যাংক এবং তারুণ্যের আবেদন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বড় শক্তি। তাছাড়াও দীর্ঘ ১৭ বছর শত প্রতিকূলতার মাঝেও নানা ভাবে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন।
অন্যদিকে গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী তরুনদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। পরবর্তীতে গনঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুনদের হাতে গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করায় তরুনদের একাংশ জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
গত টানা ৩টি নির্বাচন একপাক্ষিক হলেও এবারের নির্বাচন মোটেও একপাক্ষিক হচ্ছে না। ফলে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত হয়, তবে জয়ের মালা কার গলায় উঠবে তা বলা মুশকিল। তবে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সমর্থকরা আশাবাদী যে, সকল বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষেরই জয় হবে। উপজেলা জুড়ে নির্বাচন কেন্দ্রীক বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও সাধারণ মানুষের অপেক্ষা আর নানা জল্পনা কল্পনা শেষে সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে এই আসনে কে হবেন আগামীর কা-ারি?