বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজের রন্ধে-রন্ধে যেই বৈষম্য, বিচারহীনতা, নৈতিক অবজ্ঞার সৃষ্টি হয়েছে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নৈতিক অবজ্ঞার কারণেই জনগণের আমানত খেয়ানত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক অবজ্ঞার এক দৃষ্টান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সারাদেশে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের কিন্তু ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীদের! এই যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করা হয়েছে এটা নৈতিকতার অভাব এবং আদর্শ বিসর্জনের দৃষ্টান্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক একজন নারী উপদেষ্টা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তাঁরা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও আমরা তাদেরকে মেইনস্ট্রিম হতে দিই নাই। ঐ সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রমাণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশ এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা ডিপ স্টেট যৌথভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিজেদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। শুধু ক্ষমতায় বসায়নি বরং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ তৈরি করে দিয়েছে। কারণ এই দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদলের মতামত উপেক্ষা করে নিজের মন-মতো আইন তৈরি করতে পারবে।
গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার উদ্যোগে ঐতিহাসিক বদর দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন বদর যুদ্ধের শিক্ষা হচ্ছে সংখ্যা বা অস্ত্রের চেয়ে ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাসই বিজয়ের চাবিকাঠি। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) এর নেতৃত্বে মুসলমানদের সৈনিক ছিল মাত্র ৩১৩ জন। অন্য দিকে আবু জাহেলের নেতৃত্বে কুরাইশদের সৈন্য ছিল সহস্রাধিক। কিন্তু বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হয়। কারণ মুসলমানদের মধ্যে ছিল ঈমানী শক্তি, ধৈর্য এবং এক আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদর যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিতে তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিজয় হলেও চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়নি। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য দেশপ্রেমিক সকল ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত ও সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, বদরের শিক্ষা হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন উৎস্বর্গ করতে দ্বিধাবোধ না করা। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সেই ৩১৩ সাহাবী যেভাবে ইসলাম ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করে ইসলামের বিজয় অর্জন করেছে একইভাবে আমাদেরকে নব্য জালেমদের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মাদ আল-আমীন রাসেল প্রমূখ।