বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর (রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে গণবিরোধী সরকার গঠিত হয়েছে”। তিনি বলেন, দেশে রক্ত প্রবাহিত না করে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলকে কাজ করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণ সরকারকে মানবে না। ফলে আবারও মানুষ বিদ্রোহের পথ বেছে নেবে। জনগণের কথা মেনে নেওয়ার নামই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃটিশ-পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে স্বাধীন দেশের বিগত সরকারে যারাই ছিল কেউ জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। আগামীতেও কোনো সরকার জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। জামায়াতে ইসলামী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদল হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রাম ছিল শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের বিরুদ্ধে। জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ বিদ্রোহী হয়ে উঠে এবং রাজপথে নেমে আসে। জনগণ রাজপথে নেমে আসলে কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি আর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল জেহাদের (আন্দোলন-সংগ্রামের) বিকৃত ও খণ্ডিত ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। যেই ইতিহাস প্রকৃত এবং সত্য তরুণ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানাতে হবে। সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিধান থাকলেও কেন ব্যবহার হচ্ছে না প্রয়োজনে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সর্বক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলা ভাষার ব্যবহার হতে হবে। তবেই ভাষা সৈনিকদের আত্মদান ও ত্যাগের মূল্যায়ন হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্র সুসংহত করতে হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাদ দিয়ে যারা গণতন্ত্র সুসংহতের কথা বলে তারা মূলত স্বৈরতন্ত্র কায়েমের পথে হাঁটছে। যেই গণতন্ত্র রক্তপাত ঝরায়, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয় সেই গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ চায় না। মানুষের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করার গণতন্ত্র মানুষ চায়। তিনি বলেন, একুশের চেতনা মানে দুর্নীতি নয়, চাঁদাবাজি নয়, স্বৈরতন্ত্র নয়। একুশের চেতনা থেকে জুলাই চেতনা প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। যদি জুলাই চেতনা সরকার বিনষ্টের চেষ্টা করে তবে আরেকটা জুলাই হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর মাল্টিপারপাস হলেরুমে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে ড. মোবারক হোসাইন, আব্দুস সালাম, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদু সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একুশে ফেব্রুয়ারি আছে কিন্তু একুশের চেতনা নাই। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা অতীত ভুলে যাই। যখন যারা ক্ষমতায় বসে তখন তারাই নিজেদের সব অবদান দাবি করে এবং ইতিহাস ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। প্রকৃত অর্থে যাদের অবদান তাদেরকে ভুলে গিয়ে অবজ্ঞা করা হয়। তিনি ইতিহাস বিকৃত করার পথ থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়ে বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে বলেছিল জুলাই আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তারা এখন সব অর্জন নিজেদের দাবি করে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পরও তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। তাহলে কেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে বিএনপিকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখবেন জনগণের বিরুদ্ধে গেলে পালিয়ে যেতে হবে।