যশোরের মনিরামপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গুলির অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মনিরামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফজলুল হক ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় মনিরামপুর বাজারে কেন্দ্রীয় মসজিদের পূর্ব পাশে যশোর -৫ আসনের এমপি মহোদয়ের বাসার নিচে অবস্থানরত জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিল্লাল গাজী, শহিদুল ইসলাম ও ইজাজুল এর নেতৃত্বে, মামুন, মাসুদ, কামরুল, সোফিয়ার, সিরাজের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে জেলা শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আহসান হাবিব লিটন, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন ও রেজাউলসহ অন্তত ১৫-২০ জন রয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই মাগরিবের নামাজ শেষে নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থানকালে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আকস্মিক আক্রমণ চালায় এবং পরে উপজেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রতিপক্ষ একটি ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। জামায়াত নেতারা দাবি করেন, এটি কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া একই রাতে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা সত্ত্বেও আবারও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মনিরামপুর সরকারি হাসপাতালের সামনে বাড়ি ফেরার পথে আতিয়ার, পারভেজ, সিরাজ, জিয়াউর, মনির, ওসমান, শরিফুল, ইমদাদুল,সাজেদুলসহ একদল সশস্ত্র বাহিনী জামায়াত কর্মীদের ওপর পুনরায় হামলা চালায়। এ সময় উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হয়। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এক কর্মীর পায়ে লাগে। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন।
জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাওয়া হলেও ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে হামলাকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে দ্বিতীয় দফায় আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো, হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভাঙচুরকৃত কার্যালয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করা। অন্যথায় পরবর্তী পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস ও সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। মনিরামপুরের শান্ত পরিবেশ নষ্টের পেছনে একটি মহল সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জেলা শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জামায়াত নেতারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।