জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তাল সারা দেশ। এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সরকারকে এই ঘটনার পুরো দায়িত্ব নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে তিনি এই পোস্ট করেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। শহীদ হাদীর মৃত্যুতে শোকার্ত জাতি যখন সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করছে হাদীর রুহের মাগফিরাতের জন্য, তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকসহ আরও অনেকের ওপর হীন হামলা সংঘটিত হলো। বিএনপি মহাসচিব লেখেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য যারা অপেক্ষা করে, এরা এই দেশের শত্রু। তারা অপেক্ষা করে সংকটের। আজ এই দুঃখভারাক্রান্ত মুহূর্তকে এরা ধ্বংসাত্মক কাজে রূপান্তর করল। সরকারকে এই ঘটনার পুরো দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রায় এক বছরের বেশি সময়কাল ধরে বিভিন্ন মব সন্ত্রাস পুরো জাতিকে বিভক্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, হাদী নির্বাচনে প্রার্থী ছিল। জনগণের দরজায় গিয়েছিল। নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। হাদীর আততায়ীর বিচার এবং প্রতিটি মব সন্ত্রাসের বিচার করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যু ঘিরে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে সেই পরিস্থিতি আন্দাজ করে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারকে আমরা অনুরোধ করবো, যেন তারা সব ধরনের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়। তবে এক্ষেত্রে সরকারের কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনারও জায়গা আছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আন্দাজ করা উচিত ছিল।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকা দরকার ছিল এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আগে থেকেই নেওয়া উচিত ছিল। কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যের স্থান আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে আমরা দেখেছি। এর মাধ্যমে সারাদেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপপরিকল্পনা বা অপকৌশল আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপত্তাজনিত সব বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সরকার এক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, এটি কোনো জনসভা নয়। এটি ৩০০ ফুটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে। আজই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। তারেক রহমান জনগণের সামনে উপস্থিত হবেন, জনগণকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাবেন। এটি সদস্যপদ বিতরণ বা জনসভা নয়।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তাকে হত্যার মূল উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, যারা মৃত্যু সংবাদের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালাও-পোড়াও শুরু করেছে এবং অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, তারা বুঝে বা না বুঝে কার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে সে প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, কর্মরত সাংবাদিকদের ভবনের ভেতরে রেখে হত্যাচেষ্টা, সম্পাদক নুরুল কবিরকে হেনস্থা, কিংবা বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, এসব কর্মকাণ্ড থেকে কারা লাভবান হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ন্যায়বিচারের পথে অগ্রসর না হয়ে কেন এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, লাশের রাজনীতি, মবের সংস্কৃতি, বিভাজন ও ঘৃণার বয়ান কোনোভাবেই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে না। এই সংকটময় মুহূর্তে সাহসী উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদী আমাদের ভাই। যে কোনো মূল্যে তার হত্যার বিচার হতেই হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, হীন রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো নিরপরাধ ও গণতন্ত্রকামী মানুষ যেন আর বলি না হন।