বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষিত তফসিলকে মোবারকবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহম্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। প্রসঙ্গত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাতে নির্বাচন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, সংশয় ও সন্দেহের অবসান হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন যাতে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করতে হবে এবং কোনো ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শন করা যাবে না। একটি প্রত্যাশিত নির্বাচনের জন্য সবার আগে প্রয়োজন সমতল মাঠ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি- যেখানে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো হতাশাজনক নির্বাচন জাতি আর দেখতে চায় না। তাই নির্বাচন কমিশনকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী যথার্থ ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী নির্বাচন যেন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে ইনশাআল্লাহ। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির ৫ আগস্টের বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণ হওয়া প্রয়োজন-এ জন্য সবাইকে চেষ্টা চালাতে হবে।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে ‘হ্যাঁ’ কে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ঘোষিত ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে তৎক্ষনাৎ প্রতিক্রিয়ায় স্বাগত জানিয়ে এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশামাফিক ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের যে তফসিল ঘোষিত হয়েছে তাকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানায়।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু, অবাধ, ক্রেডিবল ও উৎসবমুখর নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার আটটি দলের দাবিকে উপেক্ষা করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের যে চ্যালেঞ্জ তারা নিয়েছেন সেই চ্যালেঞ্জে তারা সফল হন; সেই প্রত্যাশা আমরা করি। সেজন্য আমরা সহায়তাও করবো ইনশাআল্লাহ।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা শেষাবধি আশা করেছিলাম যে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্দোলনরত আটদলের দাবি মেনে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করবে এবং জাতীয় ভোটের আগে গণভোট আয়োজন করবে। আমাদেন সেই দাবি উপেক্ষিত হলো। তথাপিও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা একে স্বাগত জানাচ্ছি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন,মাঠ প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের অধিনে। মাঠ প্রশাসনের বিন্যাসে এবং কার্যক্রমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। কোন দলের প্রতি কোন ধরণের আনুকুল্যে দেখানোর সুযোগ নাই। আইন-শৃখঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে।
খেলাফত মজলিস
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। তফসিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ঘোষিত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত সময় যা সচেতন রাজনৈতিক মহলের আগে থেকেই দাবি ছিল। তফসিলে ঘোষিত বিভিন্ন সময়সীমা যথার্থ হলেও একই দিন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা একটি দুরূহ কাজ। এই ক্ষেত্রে বাজেট, দক্ষ জনবল ও ভোটারদের সচেতনতার সমন্বয় থাকতে হবে।
অন্যদিকে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো প্রস্তুত নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পেশীশক্তির রাজনীতি ও কালো টাকার প্রভাবে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। ৫ আগস্ট পরবর্তি লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত যৌথ বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদি অপশক্তি এখনো ষড়যন্ত্র ও নাশকতায় লিপ্ত। এমতাবস্থায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োগ করতে হবে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা আশা রাখি।
বাংলাদেশ লেবার পার্টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। সন্ধায় এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে দেশব্যাপী নির্বাচনি পরিবেশ তৈরিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানিয়ে বলেন- তফসিল ঘোষণা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিলেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সকল দলের সমান সুযোগ, নিরাপদ প্রচারণা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন- অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ এবং কালো টাকার মালিকদের অযোগ্য ঘোষণা ছাড়া নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যাবে না। আরপিও-র বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ডাঃ ইরান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন- লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ অভিযান, কালো টাকা ও অনিয়মে জড়িতদের প্রার্থীতা বাতিলে আরপিও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ লেবার পার্টি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।