স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সারা বিশ্বে হঠাৎ করে একটা দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। তা হলো ইরান, আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধ। এ দুর্যোগের প্রভাবে আমাদের দেশের জ্বালানি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের দীর্ঘ লাইন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি অনেকটাই কৃত্রিম। দেশে তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই, বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তেলের সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে। কিছু অসাধু চক্র তেল মজুত করে কালোবাজারে বিক্রি করছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকার বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে। যারা এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নত জেলা হিসেবে দেখতে চাই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এলজিইডির মাধ্যমে রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলছে। আরও একটি নতুন প্রকল্প আসছে, আরও দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আগামী রবিবার ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে। ইউনিভার্সিটির কাজ শুরু হবে। বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী মহাসড়ক বাড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেছি। বাইপাসের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমরা ইনশাআল্লাহ কাজ করবো। আমাদের মা বোনদের জন্যও কাজ করা হচ্ছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার জন্য যাতে কাজ করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, সুবিধাভোগীদের জন্য অনেক উপহার রয়েছে। আমাদের এলাকার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে যে রাস্তাগুলো কাঁচা আছে সেগুলোকে পাকা করনের কাজ করা হবে। আপনারা কখনও বিচলিত হবেন না, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবেন না। যারা মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা প্রতারণা করে তাদেরকে প্রশ্রয় দিবেন না। দু:খজনকভাবে বাংলাদেশে একটি জিনিস লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। আমরা তথা জনগণ ঐক্যবদ্ধ ভাবে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করেছি ৫ আগষ্টে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমার দল আন্দোলন করেছে, আমার জোট আন্দোলন করেছে। আমার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৩ জন শহীদ হয়েছেন। এটার মূল্য, যারা জান দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে, আমাদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ তৈরির জন্য সেটার পুরস্কার দিতে হবে, বাংলাদেশ একটি শান্তিময়, স্থিতিশীল ও একটি উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চাই।

কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের কৃষকরা সবসময়ই মার খায়। এবারো তারা আলুতে বিশাল মার খেয়েছে। তারা দাম পায়নি। তাদের উৎপাদন খরচটাও ওঠেনি। আমরা আমাদের এসব কৃষক ভাইদের জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই তাদের কৃষক কার্ড দেয়ার কাজ চলছে। এছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারে সেজন্য কৃষিভিত্তিক এলাকা গুলোতে আমরা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষি জোন ও কৃষি হিমাগার তৈরি করবো। কৃষক বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচবো।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি এক বান্ডিল টিন, ৩ হাজার টাকা করে মোট ৫শ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়াও মোট ৮০টি পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ৬ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার প্রতি এক বান্ডিল টিন এর জন্য ৭০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে। ৫ হাজার টাকা পরিবারপ্রতি এমন পরিবারের সংখ্যা ৬০টি। ৮৮টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হবে। এছাড়াও আমার মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, কবরস্থান ৫টি, ঈদগাহ ৪টি, শ্মশান ১টিসহ সর্বমোট ২৯৪ টি প্রতিষ্ঠানকে চেকপত্র প্রদান করবো যার মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: গোলাম ফেরদৌস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: খোদাদাদ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তা, বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুবিধাভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।